কি আছে কুবিতে ভর্তিচ্ছু ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীর ভাগ্যে

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভিসি নেই প্রায় দুই মাস সময় ধরে। দীর্ঘদিন ভিসির পদটি শূন্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দিন দিন বাড়ছে। এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। ফলে ঝুলে আছে ভর্তিচ্ছু ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীর ভাগ্য। এছাড়া আটকে গেছে চার শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা।

সূত্র জানায়, গত বছরের ১৭ ও ১৮ নভেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তখন শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে আটকে যায় পরীক্ষা। এর কিছুদিন পর ভিসি অবসরে যাওয়ায় সেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি আজও।

ভর্তি দেরির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে বড় ধরনের সেশনজটে। জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর অবসরে যান কুমিল্ল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলী আশ্রাফ। এরপর দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে নতুন ভিসি যোগদান করেননি। এছাড়া প্রো-ভিসির নতুন পদ সৃষ্টি হলেও সেই পদটি এখনও খালি।

শূন্য রয়েছে ট্রেজারের পদও। এ সব পদ শূন্য থাকায় ১৮০ জন শিক্ষক, ৬৬ কর্মকর্তা ও ১৮৪ কর্মচারীর বেতন আটকে গেছে। কামাল হোসেন নামে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখনো পরীক্ষা না হওয়ায় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। কী করবো বুঝতে পারছি না। ভর্তি দেরির কারণে আবার পড়তে হবে লম্বা সেশনজটে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, দুই মাস বেতন পাচ্ছি না।

খুব সমস্যায় পড়েছি। ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। কবে ভিসি স্যার আসবেন আর কবে বেতন পাবো, জানি না। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সাবেক সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অচলাবস্থা দু:খজনক।

ভর্তি পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়বে। অচলাবস্থা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’ বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘মঞ্জুরী কমিশন সচিব বরাবর এ সব সমস্যা নিরসনে আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে ভিসি স্যার যোগদান করবেন। তিনি যোগদান করলে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।