বরুড়ায় ভূয়া ডাক্তারের চিকিৎসার নামে প্রতারনা

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● বরুড়া উপজেলা শাকপুর ইউনিয়নের চৌওরী বাজারের মান্নান মার্কেটে দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে এক ব্যাক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শংকর আচার্য্য চৌওরী বাজরে প্রায় ১৭ বছর ধরে নামের আগে ডাক্তার ডিগ্রী লাগিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেছে। মূলত সে একজন ঔষধ বিক্রেতা।

কোন ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই সে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ ফার্মেসী খুলে বিভিন্ন অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নিন্মমানের ঔষধ ও নকল ঔষধ অধিক মুনাফার লাভের উদ্দেশ্যে বিক্রয় করে আসছে।

সে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েও রগে সেলাইন ও ইনজেকশনও পুশ করে।

সরেমিনে গিয়ে আমাদের প্রতিবেদক ডাক্তার শংকর আচার্য্যের ডাক্তার ডিগ্রী দিয়ে লেখা সাইনবোর্ডের ছবি তুললে সে স্থানীয়দের সহযোগীতা নিয়ে মেনেস করার অপচেষ্টা চালায়। এতে সে ব্যার্থ হয়। পরে রাত অনুমান ১০ টার দিকে বরুড়া বাজারে এক জনৈক ব্যাক্তির দোকানে ডেকে নিয় তার চাচা প্রিয়াঙ্কার ফার্মেসীর প্রোপইটর (অজ্ঞাত) পুনরায় টাকা দিয়ে মেনেস করার চেষ্টা চালায়। ১৮ জানুয়ারী সকালে সে সাইনবোর্ডের লেখা নিল রং দিয়ে মুছে ফেলে।

এছাড়াও বরুড়া উপজেলায় ভূয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি। উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বাতাইছড়ি বাজারে রয়েছে জোবায়ের হোসেন, আজহারুল ইসলাম মাসুদ সহ ৮/১০ জন, ভাউকসার বাজারের মাসুদ রানা, ফজলুল হক সহ বরুড়া উপজেলা ও পৌরসদরে বিভিন্ন ফার্মেসীতে ডাক্তার ডিগ্রী লাগিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসা প্রদান করে আসছে এসব ভূয়া চিকিৎসকরা। অথছ এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্স সম্পন্ন করা ছাড়া কেউ ডাক্তার ডিগ্রী লাকাতে পারবে না বলে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ দ্বারা প্রতিয়মান।

এবিষয়ে শংকর আর্চায্য জানান, তিনি ডাক্তার লাগিয়ে ভূল করেছেন। তার কোন ডিগ্রী নেই। আমি এলেখা মুছে ফেলবো, আর কোন ঔষধ লিখবো না।

এবিষয়ে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকম্পেøক্সের টি এস ও ওমর ফারুক বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ দ্বারা এলোপ্যাথি চিকিৎসা পরিচালিত হয়। নামের আগে ডা. পদবী এবং নিজেকে “মেডিকেল ডাক্তার” হিসাবে কে কে পরিচয় দিতে পারবে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট আইন দ্বারা তা উল্লেখিত রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের জারিকৃত আইন অনুসারে কেবলমাত্র গইইঝ এবং ইউঝ পাশকৃত চিকিৎসকগণ নামের আগে ডা. পদবী ডিগ্রী লেখার অনুমতি বহণ করেন।