উন্নয়নের ফোর লেনের গতি থামিয়ে দিচ্ছে ২ টোলপ্লাজা!

হুসাইন আজাদ ঢাকামুখী বাস থেকে ● দুই মাস সাত দিন। এই দীর্ঘ ৬৭ দিনে গতিশীল জগতের অনেক কিছু বদলে গেলেও বদলালো না ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী দ্বিতীয় সেতু (দাউদকান্দি ব্রিজ) আর প্রথম সেতু (মেঘনা ব্রিজ) কেন্দ্রিক জ্যামের দুর্দশা। গত ২৭ অক্টোবর ফেনী থেকে ঢাকায় যাত্রায় যে দুঃসহ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, এতোদিন পর জ্যাম আতঙ্ক নিয়ে গাড়িতে চড়েও সেই দুর্ভোগই পোহাতে হলো।

কারণ? সেই টোলপ্লাজা। দুই সেতুর টোলপ্লাজার চরম অব্যবস্থাপনায় দু’পাশে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে যাত্রীবাহী পরিবহনসহ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। আর এতে যেমন সাধারণ যাত্রীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে, তেমনি সরকারের ফোর লেন প্রকল্পও ফলদায়ক মনে হচ্ছে না জনগণের কাছে।

ফেনী থেকে সাধারণত স্টারলাইন পরিবহন বা এনা পরিবহনের বাসে ঢাকায় পৌঁছাতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগলেও দুই টোলপ্লাজার অতীত অভিজ্ঞতার আতঙ্কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবদুল আলীম তার গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রা করেছেন ৬ ঘণ্টা হিসাব করে, ভোর ৬টা ১০ মিনিটের বাসে।

গাড়িও ফোর লেন মহাসড়ক ধরে চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা বিশ্বরোড, ময়নামতি, চান্দিনা পেরিয়ে যায় সাঁ সাঁ গতিতে। কিন্তু দাউদকান্দি ব্রিজের কয়েক কিলোমিটার আগে এসেই বাসের চাকা থেমে যায়। এই কয় ফুট এগোয়, এই থেমে থাকে, আবার এগোয়, আবার স্টার্ট বন্ধ করে থেমে থাকে। এরমধ্যে আবদুল আলীম কেবল হাসফাঁস করছিলেন, ‘ধ্যাত, উহ, কতোক্ষণ যে লাগে’।

কী জন্য দিনের পর দিন এই একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের? আবদুল আলীমের কথা, ‘যেদিন থেকে টোলপ্লাজার ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাত থেকে এ দেশিদের হাতে গেছে, সেদিন থেকে এই অবস্থা। অব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে ২ টোল প্লাজাই! টোল নিতে গিয়ে গাড়ির লাইন ফেলে দেয় এখনকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা।’

সাঁ সাঁ করে পুরো রাস্তায় এলেও টোলপ্লাজায় আটকে ব্যয় হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টাএই রুটের যাত্রীদের পাশাপাশি ড্রাইভাররাও কয়েকমাস ধরে দীর্ঘ জ্যাম দেখছেন টোলপ্লাজা দু’টি ঘিরে। একটি পরিবহনের চালক বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে আসা লরি বা কাভার্ড ভ্যানের ওজন করতে গিয়ে তর্কাতর্কি হয়, তার জেরে এই জ্যাম হয়। যেমন প্রথমে কোনো লরি ওজন করার স্কেলে দেওয়া হলে ওজন দেখায় ২০ টন, কিন্তু ড্রাইভার বলে, আমি তো আনলাম ১৫ টন, তখন আবার বলে পেছনে গিয়ে আবার আসেন।

আবার স্কেলে ওঠানো হলে হয়তো একটু কমায়, ১৮ টন, কিন্তু ড্রাইভার মানে না, সে বাড়তি ফি দেবে না গোঁ ধরে থাকলে এবার তাকে সাইড লাগাতে বলা হয়, এমন করতে করতে ওই গাড়ির পেছনে লেগে যায় দীর্ঘ লাইন’।

ফেনী থেকে স্টারলাইন পরিবহনের ভোরে যাত্রা করা ঢাকাগামী গাড়িটির চালক কাওসার ১৬ বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন। তিনিও জানান, গত বেশ কয়েকমাস ধরে এই অবস্থা চলছে দুই টোলপ্লাজায়। কাওসার বলেন, সুষ্ঠুভাবে টোল আদায় হলে এই জ্যাম বাঁধে না। পুরো রাস্তা সুন্দরভাবে এলেও এখানে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। যে গতিতে আসি, এখানে এসে সে গতিতে থেমে যেতে হয়। অথচ গতকাল ভোরে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় সেই গাজীপুরের চেরাগ আলী থেকে ফেনী চলে গেছি।’

কাওসারের এই কথা যেন আবদুল আলীমের কথারই ক্রুদ্ধ উচ্চারণ, ‘মানুষের সময় বাঁচাতে সরকার এ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করলেও, এর গতি এসে থেমে যাচ্ছে টোল প্লাজায়, মারাত্মকভাবে!’