গলার কাঁটা দাউদকান্দি টোল প্লাজা

মহিউদ্দিন মোল্লা ● ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি টোল প্লাজা মহাসড়কের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। ফোর লেন হওয়ার পর কুমিল্লা থেকে ঢাকায় যেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগার কথা থাকলেও সেখানে পাঁচ ছয় ঘণ্টা লাগছে। এ জন্য যাত্রীরা দাউদকান্দি টোল প্লাজার গাড়ি ছাড়ার ধীরগতি আর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ এলাকার যানজটকে দায়ী করেছেন।

বিশেষ করে শুক্রবার দাউদকান্দি টোল প্লাজার যানজট কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়।

কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রী ডা. গোলাম শাহজাহান বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেন হওয়ার পর আশায় বুক বেঁধেছি দ্রুত ঢাকায় যাব। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় যেতে যেখানে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগার কথা, সেখানে পাঁচ ছয় ঘণ্টা সময় লাগছে। দাউদকান্দি টোল প্লাজার গাড়ি ছাড়ার ধীরগতি আর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ এলাকার যানজট যাত্রীদের দিনকে মহাসড়কে রাত করে ছাড়ছে। আমরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রডবোঝাই করা একটি বড় লরি টোল প্লাজায় এসে ৮ মিনিট আটকে থাকল। তর্কবিতর্ক শেষে ওজন বেশি হওয়ায় এর চালককে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। তিনি আবার অন্য সারিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। এদিকে তার পেছনে লম্বা জট লেগে যায়।

ওই লরির চালক কামাল হোসেন জানান, ‘সীতাকুণ্ডে ওজন দিলাম একটা, এখানে এসে দেখি আরও বেশি। মূলত তাদের ওজন স্কেলে সমস্যা আছে। একটিতে ৪৫ টন ওজন হলে অন্যটাতে আবার ৪০ টন দেখা যায়। ’

তিনি আরও বলেন, ‘এ জন্য আমাদের হয়রানিতে পড়তে হয়। বিভিন্ন সারিতে গিয়ে দাঁড়াতে গিয়ে যানজট লাগে। যাদের ওজন বেশি হয় তাদের আটকে রেখে রাতে বেশি টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

টোল প্লাজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট (অব.) আবদুল মজিদ ভুইয়া বলেন,‘ সীতাকুণ্ডে ওজন দেওয়ার পর অনেকে পথে মালামাল নেওয়ায় ওজন বেড়ে যায়। টাকা নিয়ে রাতে গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। গাড়ি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার জন্য তত্পর রয়েছি।’

টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান সিএনএস লি.-এর নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) জিয়াউল আহসান বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে সব গাড়ি ওজন করার সুয়োগ থাকে না। ৪৪ টন ওয়েটের অনুমতি দেওয়ায় ওভার ওয়েটের বেশি গাড়ি এখন টোল প্লাজায় খুব বেশি আসে না। ছুটির দিনে কিছু চাপ থাকে। মেঘনা-গোমতী সেতু দুই লেনের হওয়ায় মাঝে-মধ্যে কিছু জট লাগে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন চালকদের ভোগান্তি রোধে তত্পর রয়েছি।’