সৌদিতে পান বিক্রি করে এখন সচ্ছল মর্জিনা

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● মর্জিনা বেগম গত আট বছর আগে হাসপাতালের ভিসায় ২০১০ সালে সৌদি আরব আসেন। পরিবারের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ভালো কাজে আর সচ্ছলতার আশায় পাড়ি জমান স্বপ্নের সৌদি আরবে। কিন্তু ভাগ্য তার পক্ষে ছিলো না। কোম্পানীর চাকরি কথা বলে নিয়ে এসে গৃহকর্মীর কাজ দেন।

এক বছর ধরে একটি বাসায় কাজ করে বেতন পেয়েছেন মাত্র তিন মাসের। এর উপর আবার রয়েছে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

মর্জিনা বেগম তখন সিদ্ধান্ত নেন বাসা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও কাজ করবেন অথবা দেশে চলে যাবেন। সিদ্ধান্ত নিয়ে পালিয়ে এসে জেদ্দায় কনস্যুলেট এর পাশে একটি পরিবারে আশ্রয় নেন। পরে ওই পরিবার থাকে পাশে একটি হাসপাতালে ক্লিনারের চাকরি দেন। সেখানেও ছয় মাস চাকরি করে মাত্র দুই মাসের বেতন পান। চাকরি আবার ছেড়ে দেন।

মর্জিনা যে বাসায় থাকত সে বাসা ছিল একদম বাংলাদেশ কনসুলেট, জেদ্দার পাশে। বাংলাদেশ কনসুলেটের পাশে মানুষজন পানি বিক্রয় করে। এটা দেখে মর্জিনার মনে কৌতূহল জাগে। যে বাসায় থাকত সেই বাসার মহিলার সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় পশরা বসিয়ে পান ও পানি বিক্রয় করবে। কিন্তু আরেক সমস্যা তার সামনে এসে দাড়ালো, তা হলো ব্যবসা করার পুঁজি।

ব্যবসা করতে লাগে পুঁজি, তার কাছে তো কিছুই নেই। সৌদি প্রবাসী যে ফ্যামিলিতে থাকত তাদের সহযোগিতায় মাত্র ১শ রিয়াল বিনিয়োগ করে জেদ্দা কনসুলেট এর পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে ছোট্ট একটা পানের পশরা দেন ২০১৩ সালে মর্জিসানা। এখনো পর্যন্ত সেই পানের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ।

পুলিশ চেক করতে আসলে দোকান থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ চলে গেলে আবার বেচা কেনা শুরু করেন। এভাবেই নিজেকে বাঁচিয়ে বিদেশ-বিভূঁইয়ে কাজ করছিলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মহনপুর গ্রামের মর্জিনা। ২০১৩ সালে সৌদি সরকার যখন অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেন সেই সুযোগ গ্রহণ করেন মর্জিনা। কিভাবে সেই বৈধতা নিলো তার কাছ থেকে জানতে চাইলে মর্জিনা বলেন, এই পানের ব্যবসা করে আমি ভালো আছি, অভাব শেষ হয়েছে। এই পানের ব্যবসা করেই ৪৫ হাজার রিয়ালের বিনিময়ে ভিসা বানিয়েছি।

মর্জিনা আরো জানান, ২০১৩ সালে তিন বছর ধরে সৌদিতে সে অবৈধ ছিল, তার কাছে তখন ছিলনা কোন পাসপোর্ট ছিলোনা, ছিলোনা কোন ইকামা।

তারপরও ১৫০ রিয়াল অর্থাৎ ‍তিন হাজার টাকা আয় হতো প্রতিদিন। তিনি জানান, কনসুলেট খোলা থাকলে বেচা-কেনা হয় বেশি। শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন হওয়াতে ব্যবসা থাকে না আমিও আর বসি না, এভাবে তার মাসিক আয় ৯০ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকা ছিল।

বর্তমানে তার বেচাকেনা কেমন জানতে চাইলে বলেন, আগে অনেক ছিল কিন্তু এখন আর সেই রকম নেই। তারপরও মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত পান বিক্রয় করে এবং এর পাশাপাশি আর কিছু করে কিনা জানতে চাইলে মর্জিনা বলেন, সকলা নয়টা থেকে দুপুর দুইটা কোন কোন সময় একটা বাজে চলে যাই। আর এর পাশাপাশি আমি দুইটি বাংলাদেশি পরিবারে কাজ করি। সেখানে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করি।

মর্জিনার সচ্ছল হয়ে ওঠার গল্প জানতে চাইলে বলেন, আমি এই পানের ব্যবসা করে আমি অনেক অর্থ উপার্জন করেছি। দেশে গ্রামের বাড়িতে জমি কিনেছি।

ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছি পাশাপাশি মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিম খানায় প্রতিবছর দান করি। আমার বড় মেয়ে কলেজে পড়ে আর ছেলে এইবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। আলহামদুলিল্লাহ আমি এখন দারিদ্র্যতাকে হার মানিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি।

আর কতদিন এইভাবে কাজ করে যাবে জানতে চাইলে মর্জিনা বলেন, এভাবে আরো কিছু দিন ব্যবসা করে দেশে ফিরতে চায়।পরিবার আর নিজের ভবিষ্যতের জন্য আরো ভালো কিছু করতে চান।