কুমিল্লায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ ডাকাত নিহত; পুলিশের প্রেস ব্রিফিং

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লার দেবিদ্বারে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাহ আলমের দেবিদ্বারের জাফরগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাত সদস্য রাসেল ও ফারুক জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। শনিবার ভোর রাত সোয়া ৩টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের জেলার দেবিদ্বার উপজেলার হাতিমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ডিবি’র এসআই নজরুল ইসলামসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পুলিশ ৫ ডাকাতকে গ্রেফতারসহ ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, বেশ কয়েকটি রামদাসহ দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম সাংবাদিকদের জানান, ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবিদ্বার সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ সেলিম, ডিবি’র ওসি একেএম মনজুর আলম, ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ ও এসআই সহিদুল ইসলাম পিপিএমসহ ডিবির ২টি দল সেখানে পৌঁছে।

এসময় ডাকাত দল ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতারি গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা ৪৯ রাউন্ড শর্টগানের গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ ডাকাত গুরুতর আহত হয়।

আহত ২ ডাকাতকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ডাকাতরা হচ্ছে- জেলার দেবিদ্বার উপজেলার কুরুইন গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (২২) ও একই উপজেলার ছেচড়া পুকুরিয়া গ্রামের রহমান ওরফে রইক্কার ছেলে রাসেল (২৮)। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হচ্ছে- দেবিদ্বার উপজেলার ফুলতলী গ্রামের রবিউল আউয়াল রবি (২৬), ব্রাহ্মণপাড়ার উত্তর তেতাভূমি গ্রামের কামাল হোসেন (৪৫), বুড়িচং উপজেলার কংশনগর গ্রামের শরীফুল ইসলাম, একই গ্রামের পলাশ দেবনাথ (২৪) ও একই উপজেলার ইন্দ্রবতী গ্রামের সোহেল (৩৬)। ডিবি পুলিশ ডাকাতদের নিকট থেকে এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি রিভলভার, ৩টি রামদা, কালো কাপড়ের ৫টি মুখোঁশসহ দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় আহত ডিবি পুলিশের এসআই মো. নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল দয়াল কান্তি কান্তি চাকমা, সাইফ উল্লাহ, রবিন চন্দ্র দাস ও মনিরুজ্জামান খানকে কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ডাকাত দলটি গত ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত গভীর রাতে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাহ আলমের দেবিদ্বারের জাফরগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে তাঁর ভাই জহিরুল ইসলামকে কুপিয়ে আহত করেছিল। এ ছাড়াও এ দলটি একই রাতে পার্শ্ববর্ত খয়রাবাদ গ্রামে রুহুল আমিনের বাড়িতে ডাকাতিসহ ইতোপূর্বে জেলার বিভিন্ন উপজেলা এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জেলার বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। এদিকে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও পুলিশ আহত করার ঘটনায় ডিবি’র এসআই শাহ কামাল আকন্দ বাদী হয়ে শনিবার সকালে দেবিদ্বার থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার (সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম আম্বিয়া মাহমুদ, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবিদ্বার সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ সেলিম, ডিবি’র ওসি একেএম মনজুর আলম, দেবিদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।