কুবিতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী পরিবহন বাসে হামলার ঘটনায় ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও হামলাকারী সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা শেষ হলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় বুধবার ক্যাম্পাসের মূল ফটক আটকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতি, পরিবহন কর্মচারী ইউনিয়ন, বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের দেওয়া পরিবহন ধর্মঘট বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে শিক্ষক, শিক্ষর্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।

কুবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সাথে একাত্মতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এ পরিবহন ধর্মঘট চলবে।

সূত্র জানায়, গত ১৭তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী একটি বাস দৌলতপুর নামক স্থানে পৌঁছালে এসময় মোটরসাইকেল আরোহী স্থানীয় শান্ত (৩০) ও জালাল (২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালক সুমন চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় অন্য বাসের চালক ও হেলপাররা এগিয়ে আসলে রাকিব (২৫), আমিনুল ইসলাম (২৪), আরিফুল ইসলাম (২৪), ভান্ডারী (৪৫) স্থানীয় দোকানদারদের সহায়তায় তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাতনামা ৩৫ জনকে আসামি করে গত ১৮ ডিসেম্বর কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মাদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন।’

এ বিষয়ে কুমিল্লার কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সালাম মিয়া বলেন, ‘মামলা হয়েছে। আমরা অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।