কুমিল্লার নব্য খন্দকার মোশতাক ড. ফায়জুল আমীর

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জন্য বেহেশত কামনাকারী টাঙ্গাইলের গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীর সরকারের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকবপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী। তার বাবার নাম মহিন মিয়া সরকার।

মহিন সরকারের চার সন্তানের মধ্যে ফায়জুল আমীর দুই নম্বর। ছোট বেলা থেকেই গ্রামের বাইরে থাকতেন তিনি। শুধু ঈদে বা পারিবারিক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাড়িতে আসতেন।

স্থানীয়রা জানান, বাড়ি গেলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সম্পর্কে সবাইকে ধারণা দিতেন ড. ফায়জুল আমীর সরকার। ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাইকে বুঝিয়ে তার অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। তার পরিবার ও অনুসারীরা গ্রামের মধ্যেই আলাদা একটা কমিউনিটি হয়ে বসবাস করেন। অন্য গ্রামবাসীদের সঙ্গে খুব একটা মেশেন না তারা। ছোট থেকেই এলাকার বাইরে লেখাপড়া করেছেন তিনি, তাই এলাকায় তার উপস্থিতি কম। লেখাপড়া শেষ করেও এলাকায় ফেরেননি ড. ফায়জুল আমীর। ২০০৯ সালে টাঙ্গাইলের গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন তিনি। এর আগে কুমিল্লা শহরের একটি মাদ্রাসায় এক বছর ও জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির একটি মাদ্রাসায় পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেছেন। নিজের স্ত্রীসহ কর্মস্থলেই বসবাস করতেন তিনি।

কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও অন্দির কোট ইউনিয়নের ইউপি সচিব সাঈম সরকার জানান, ফায়জুল আমীর মদিনা ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। লেখাপড়া শেষে ১৯৯৬ সালের দিকে তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

এলাকাবাসীরা জানান, তিনি, তার পরিবারের লোকজন এবং পাড়া-প্রতিবেশীর একটা অংশ গ্রামের অন্যান্যদের সঙ্গে তেমন একটা মিশতেন না, তারা আলাদাভাবে চলাফেরা করেন। সবাই সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী হওয়ায় ইবাদতের জন্য তাদের আলাদা মসজিদ রয়েছে। এমনকি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা দুই ঈদেও তারা গ্রামবাসী থেকে আলাদা জামায়াতের মাধ্যমে নামাজ আদায় করেন।

ড. ফায়জুল আমীরের পরিবার সম্পর্কে আরও জানা যায়, তার বাবা-মা ও দুই ভাই বর্তমানে কাশিমপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে থাকেন। ফায়জুলরা চার ভাই হলেও একজন আগেই মারা গেছেন। তার জীবিত বাকি দুই ভাইয়ের একজন ব্যবসা ও অন্যজন গৃহস্থালির কাজ করেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে একাত্তরে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়ার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। এ দোয়া অনুষ্ঠানে মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন গোপালপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীন সরকার। এসময় তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের বেহেশত নসিব করো। হে আল্লাহ, তুমি বিচারের পর তাদের বেহেশত নসিব করো।’

পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল কাদের তালুকদার বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সে মামলায় রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।