শুনানি শেষ, দুবাইয়ে খেলতে যাচ্ছেন তামিম

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৫ম আসরে উইকেটের সমালোচনায় করায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে ডেকে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ (১৪ ডিসেম্বর) হয়েছে শুনানি। অন্যদিকে আজকেই দুবাইয়ে শুরু হচ্ছে প্রথম টি-টেন লিগ। সেই লিগে খেলার কথা তামিম ইকবালের। বিসিবির শুনানিতে ক্ষমা চেয়েছেন তামিম ইকবাল। বিকেলেই ধরবেন দুবাইয়ের প্লেন।

বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের লো-স্কোরিং ম্যাচের পর উইকেটের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উইকেটকে ‘জঘন্য’ বলেছিলেন এই বামহাতি ব্যাটসম্যান। এ কারণে তাকে শোকজ করে এবং শুনানিতে ডেকে চিঠিও পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সেই শুনানিতে অংশ নেন তামিম। উইকেট নিয়ে করা নিজের মন্তব্যের জন্য বোর্ডের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এই ক্রিকেটার। শুনানি শেষে তামিম বলেন, “বিপিএলে উইকেট নিয়ে সমালোচনা করার জন্য বিসিবির শুনানিতে ক্ষমা চেয়েছি আমি। দুবাইয়ে টি-টেন লিগ খেলতে যাচ্ছি।”

আজ থেকেই পর্দা উঠতে যাচ্ছে প্রথম টি-১০ লিগের। ছয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দশ ওভারের এ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে পাখতুন্সের জার্সিতে খেলবেন তামিম ইকবাল। টুর্নামেন্টের প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে পাখতুন্স। শারজায় বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় মারাঠা অ্যারাবিয়ান্সের মুখোমুখি হবে তামিম ইকবালের দল পাখতুন্স।

তামিমের সাথে এই দলে আরো আছেন- শহীদ আফ্রিদি (আইকন), ডোয়াইন স্মিথ, ফখর জামান, আহমেদ শেহজাদ, জুনাইদ খান, মোহাম্মদ ইরফান, আমজাদ জাভেদ, সাকলাইন হায়দার।

বিপক্ষ মারাঠা অ্যারাবিয়ান্সের হয়ে খেলবেন- বিরেন্দ্র শেবাগ (আইকন), কুমার সাঙ্গাকারা, মোহাম্মদ আমির, ইমাদ ওয়াসিম, অ্যালেক্স হেলস, মোহাম্মদ সামি, লেন্ডল সিমন্স, শাইমান আনোয়ার, জহুর খান।

উল্লেখ্য, টি-টেন লিগে বাংলাদেশের পক্ষে খেলছেন সাকিব আল হাসানও। তবে আরেক ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে খেলার অনাপত্তিপত্র দেয়নি বিসিবি। সবকিছু বিবেচনায় রেখেই মুস্তাফিজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরেকটু বৃদ্ধি করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

পাশাপাশি উইকেটের বিরুপ আচরণে দারুণ হতাশ বলেও মনে হলো বাংলাদেশ দলের এই ড্যাশিং ওপেনারকে। তামিম কেনই বা বলবেন না? বিপিএলের চলতি আসরে সিলেট ও চট্টগ্রাম পর্বে যে রান বন্যা দেখা গেছে তা শের-ই-বাংলায় একেবারেই অনুপস্থিত।

চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গড়ে ১৭০-১৮০ করে রান দেখা গেছে। বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহও (২১৩) কিন্তু ওখানেই দেখা গেছে।

সিলেটর গড় অতটা বেশি না হলেও মিরপুরের মত এতটা লোয়ার স্কোরিং ছিল না। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আটটি ম্যাচের সর্বন্ম্নি স্কোর ছিলো ১৩৫ রান। আর সর্বোচ্চ ২০২ রান।

যেখানে মিরপুরের চিত্র সম্পূর্ণই উল্টো। রান বন্যা দূরে থাক, টি-টোয়েন্টিতে স্বাভাবিক যে রান (১২০-১৪০) তাই বা এখানে আসছে কই? ঢাকার প্রথম পর্বে ব্যতিক্রম ছিলো একটি বা দুটি ম্যাচ (ঢাকা ডায়নামাইটসের ২০১ রান)। কিন্তু ব্যতিক্রম তো আর উদারহরণ হতে পারে না।

ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগগুলোতে সাধারণত চার ছক্কার ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের আশা নিয়েই দর্শকেরা টিকিট কেটে মাঠে ভীড় জমান। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে একমাত্র মিরপুরেই তাদের সেই আশায় গুঁড়েবালি পরে!

মোটামুটি মানের ব্যাটিং ট্র্যাক হলেও হতো। এতো পুরোদস্তুর বোলিং ট্র্যাক! বোলারদের বল যেন ব্যাটম্যানরা খেলতেই পারছেন না। গুড লেংথের বলও বাউন্সার হয়ে চলে যাচ্ছে ব্যাটসম্যানদের মাথার ওপর দিয়ে।

উইকেটের এমন বিরুপ আচরণেই গত ২ ডিসেম্বর তামিমদের বিপক্ষে মাত্র ৯৭ রানের সংগ্রহ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় মাশরাফির রংপুর রাইডার্সকে। আবার সেই স্বল্প সংগ্রহ তাড়া করতে গিয়ে উইকেট হারাতে হয়েছে ৬টি, তাও আবার টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল আসে শেষ ওভারে!

বিষয়টি নিয়ে তাই দারুণ চটেন তামিম। সম্মেলন কক্ষে এসেই বললেন, ‘আমার প্রশ্ন আপনাদের কাছে উনি সবসময় একটা এক্সকিউজ দেয় যে প্রচন্ড পরিমান খেলা হয় বলেই উইকেট এমন হয়। কিন্তু শেষ দশ দিন খেলা হয়নি, উইকেটে বিশ্রাম হয়েছে। এরপরও সেই উইকেট! এটা সেই (কিউরেটর) উত্তর দিতে পারবে।’

‘আমার কাছে যে জিনিসটা খারাপ লাগছে, এতগুলো দর্শক আসলো, তারা এসে যদি দেখে ৯৭ রান আর ৯৭ রানের খেলা শেষ হবে শেষের ওভারে। এই খেলা দেখা তাদের জন্য ভীষণ হতাশার। আমরা সবাই চাই বিপিএল আস্তে আস্তে উপরে উঠুক। সেজন্য উইকেটটা তো ঠিক থাকতে হবে। কিন্তু এমন জঘন্য উইকেটে খেলা হলে তো সম্ভব না।’-যোগ করেন তামিম।