বিসিবিতে আজ তামিমের কঠিন জেরা?

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● তার দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফাইনাল খেলতে পারতো। তামিম ইকবালও হতে পারতেন চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক। কিন্তু তা হয়নি। এক বুক হতাশা নিয়ে শেষ করতে হয়েছে তামিম ইকবালকে। বিপিএল শেষ হবার পর তার টি-১০ টুর্নামেন্ট খেলতে যাবার কথা ছিল দুবাইতে। আজ থেকেই শুরু এই আসর। সাকিব আল হাসান চলে গেছেন। তামিম যেতে পারেননি।

কি করে পারবেন? আজ যে তাকে শুনানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিপিএল চলাকালীন মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উইকেট ও শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সমালোচনা করে রীতিমত বোর্ডের তোপের মুখে তামিম। তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং শুনানিতে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

আজ সকালেই সে শুনানি হবার কথা। তবে কাল গভীর রাতে বিসিবির অন্যতম চিকিৎসক ডাক্তার আমিন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করায় তামিমের শুনানি পিছিয়েও যেতে পারে।

জানা গেছে, শুনানিতে তামিমকে কঠিন জেরার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে যেহেতু সামনে তিন জাতি ওয়ানডে সিরিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ, তামিমকে কোনো রকম নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় না পড়লেও তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা নাকি চলছে। এমনকি নিকট ভবিষ্যতে কোনো বিদেশি আসরে খেলার অনুমতি না দেয়ার সম্ভাবনাও নাকি আছে।

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

পাশাপাশি উইকেটের বিরুপ আচরণে দারুণ হতাশ বলেও মনে হলো বাংলাদেশ দলের এই ড্যাশিং ওপেনারকে। তামিম কেনই বা বলবেন না? বিপিএলের চলতি আসরে সিলেট ও চট্টগ্রাম পর্বে যে রান বন্যা দেখা গেছে তা শের-ই-বাংলায় একেবারেই অনুপস্থিত।

চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গড়ে ১৭০-১৮০ করে রান দেখা গেছে। বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহও (২১৩) কিন্তু ওখানেই দেখা গেছে।

সিলেটর গড় অতটা বেশি না হলেও মিরপুরের মত এতটা লোয়ার স্কোরিং ছিল না। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আটটি ম্যাচের সর্বন্ম্নি স্কোর ছিলো ১৩৫ রান। আর সর্বোচ্চ ২০২ রান।

যেখানে মিরপুরের চিত্র সম্পূর্ণই উল্টো। রান বন্যা দূরে থাক, টি-টোয়েন্টিতে স্বাভাবিক যে রান (১২০-১৪০) তাই বা এখানে আসছে কই? ঢাকার প্রথম পর্বে ব্যতিক্রম ছিলো একটি বা দুটি ম্যাচ (ঢাকা ডায়নামাইটসের ২০১ রান)। কিন্তু ব্যতিক্রম তো আর উদারহরণ হতে পারে না।

ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগগুলোতে সাধারণত চার ছক্কার ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের আশা নিয়েই দর্শকেরা টিকিট কেটে মাঠে ভীড় জমান। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে একমাত্র মিরপুরেই তাদের সেই আশায় গুঁড়েবালি পরে!

মোটামুটি মানের ব্যাটিং ট্র্যাক হলেও হতো। এতো পুরোদস্তুর বোলিং ট্র্যাক! বোলারদের বল যেন ব্যাটম্যানরা খেলতেই পারছেন না। গুড লেংথের বলও বাউন্সার হয়ে চলে যাচ্ছে ব্যাটসম্যানদের মাথার ওপর দিয়ে।

উইকেটের এমন বিরুপ আচরণেই গত ২ ডিসেম্বর তামিমদের বিপক্ষে মাত্র ৯৭ রানের সংগ্রহ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় মাশরাফির রংপুর রাইডার্সকে। আবার সেই স্বল্প সংগ্রহ তাড়া করতে গিয়ে উইকেট হারাতে হয়েছে ৬টি, তাও আবার টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল আসে শেষ ওভারে!

বিষয়টি নিয়ে তাই দারুণ চটেন তামিম। সম্মেলন কক্ষে এসেই বললেন, ‘আমার প্রশ্ন আপনাদের কাছে উনি সবসময় একটা এক্সকিউজ দেয় যে প্রচন্ড পরিমান খেলা হয় বলেই উইকেট এমন হয়। কিন্তু শেষ দশ দিন খেলা হয়নি, উইকেটে বিশ্রাম হয়েছে। এরপরও সেই উইকেট! এটা সেই (কিউরেটর) উত্তর দিতে পারবে।’

‘আমার কাছে যে জিনিসটা খারাপ লাগছে, এতগুলো দর্শক আসলো, তারা এসে যদি দেখে ৯৭ রান আর ৯৭ রানের খেলা শেষ হবে শেষের ওভারে। এই খেলা দেখা তাদের জন্য ভীষণ হতাশার। আমরা সবাই চাই বিপিএল আস্তে আস্তে উপরে উঠুক। সেজন্য উইকেটটা তো ঠিক থাকতে হবে। কিন্তু এমন জঘন্য উইকেটে খেলা হলে তো সম্ভব না।’-যোগ করেন তামিম।