সংখ্যায় এবারের বিপিএল

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● দীর্ঘ ৩৯ দিনের চার-ছক্কার ধুন্ধুমার লড়াই শেষে মঙ্গলবার পর্দা নেমেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের। মঙ্গলবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৫৭ রানে হারিয়ে শেষ হাসি হেসেছে রংপুর রাইডার্স। পঞ্চম আসরের শুরুতে দাপট দেখিয়েছেন বিদেশি ক্রিকেটাররা। তবে যত ম্যাচ ও দিন গড়িয়েছে দেশি ক্রিকেটাররা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছেন।

এবার সংখ্যাতত্ত্বে দেখে নিন এবারের বিপিএলের বিভিন্ন খুঁটিনাটি পরিসংখ্যান-

১- প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো রংপুর রাইডার্স। এছাড়া বিপিএলের ইতিহাসে ফাইনাল ম্যাচে এই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন কোনও ব্যাটসম্যান। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ১৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন রংপুরের বাঁহাতি ওপেনার ক্রিস গেইল।

২– দুই সেঞ্চুরির পাশাপাশি এবারের বিপিএলে দু’টি হাফ সেঞ্চুরিও হাঁকিয়েছেন ক্রিস গেইল। দুই সেঞ্চুরি এবং হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে ৪৮৫ রান করে বিপিএলের এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন ক্যারিবিয় এই ব্যাটিং দানব।

৩–রানের খাতা খোলার আগেই তিনবার সাজঘরে ফিরেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ঢাকার মেহেদী মারুফ ও রাজশাহী কিংসের রনি তালুকদার।

৪– এক ম্যাচে চারটি করে ক্যাচ নিয়েছেন সিলেট সিক্সার্সের সাব্বির রহমান, ঢাকা ডায়নামাইটসের ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও রংপুর রাইডার্সের অ্যাডাম লিথ। সাব্বির রাজশাহী কিংস, ডেলপোর্ট সিলেট সিক্সার্স ও লিথ ঢাকার বিপক্ষে চারটি করে ক্যাচ নেন।

৫- বিপিএলের ইতিহাসে ১২ সেঞ্চুরির মধ্যে একাই পাঁচটি সেঞ্চুরির মালিক গেইল। এর মধ্যে এবারের আসরে করেছেন দু’টি সেঞ্চুরি। একাধিক সেঞ্চুরি নেই আর কোনও ব্যাটসম্যানের।

১০- উইকেটের হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। চিটাগং ভাইকিংসের দেওয়া ৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনও উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সিলেট সিক্সার্স।

১১- প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন গেইল।

১২- সর্বোচ্চ ১২ ডিসমিসালের মালিক ঢাকার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম অমি। ছয়টি স্টাম্পিংয়ের পাশাপাশি ছয়টি ক্যাচ নিয়ে ১২ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তিনি।

১৩- ১২ ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি ১৩টি ক্যাচ নিয়েছেন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

১৫- ঢাকার বিপক্ষে ১৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস দিয়ে ১৫বার ১০টি বা তার বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড গড়েছেন গেইল। দুইবারের বেশি ১০টি কিংবা তার বেশি ছক্কা মারতে পারেননি আর কোনও ব্যাটসম্যান।

১৮– এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৮টি ছক্কা মারার রেকর্ড গড়েছেন গেইল। এর আগে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ১৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে ১৭টি ছক্কা মারেন বাঁহাতি এই ওপেনার। কিন্তু ঢাকার বিপক্ষে ১৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথেই নিজের গড়া রেকর্ডটি ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

২০- এবারের বিপিএল দিয়েই টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন গেইল।

২২- সর্বোচ্চ ২২ উইকেট নিয়ে এবারের বিপিএলে উইকেট শিকারিদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

২৬- সবচেয়ে কম ২৬ ইনিংস খেলে বিপিএলে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ড গড়েছেন গেইল।

২৭– এক ম্যাচে সবচেয়ে অতিরিক্ত রান। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে এক ম্যাচে অতিরিক্ত হিসেবে ২৭ রান খরচ করেছিল রাজশাহী কিংস।

৪৫- এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি চার। রেকর্ডের মালিক কুমিল্লার অধিনায়ক ও বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল।

৪৭- পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ক্রিস গেইল।

৫৩- সর্বোচ্চ গড়। ১১ ম্যাচে ৫৩.৮৮ গড়ে ৪৮৫ রান করেছেন রংপুরের বিধ্বংসী ওপেনার ক্রিস গেইল।

৬৭- সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। ঢাকায় ফিরতে পর্বে সিলেটের বিপক্ষে স্কোরকার্ডে মাত্র ৬৭ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় চিটাগং ভাইকিংস।

৯৯- রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। ঢাকার দেওয়া ২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০৬ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহী কিংস।

১২৮- এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে পাওয়া সর্বোচ্চ রান। ফাইনালে ঢাকার বিপক্ষে ১৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে পাঁচ চার ও ১৮টি ছক্কায় ১২৮ রান করেন ক্রিস গেইল।

১০৭- প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিপিএলে ছক্কার সেঞ্চুরি করেছেন গেইল। ২৬ ইনিংস মিলিয়ে তার ছক্কার সংখ্যা এখন ১০৭টি।

১৪৬- ফাইনালে ঢাকার বিপক্ষে ১৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্রিস গেইল। যেটা বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এর আগে কোনও ব্যাটসম্যান এক ইনিংসে এত রান করতে পারেননি।

২০১- সর্বোচ্চ রানের জুটি। ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ২০১ রানের অবিছিন্ন জুটি গড়েন ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কেবল পঞ্চম আসরই নয়, বিপিএলের ইতিহাসেও এটা সর্বোচ্চ রানের জুটি।

২১৩- সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বন্দর নগরী চট্টগ্রামে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটে ২১৩ রানের পাহাড় গড়েছিল খুলনা টাইটান্স।

৩৩৫- এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ১৪ বলে ৩৩৫.৭১ স্ট্রাইক রেটে ৪৭ রান করেন রাজশাহী কিংসের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। ১৪ বলে এক চার ও ছয়টি ছয়ে ৪৭ রানের অপরাজিত ওই ইনিংসটি খেলেন তিনি।

৩৮২- এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান। চট্টগ্রাম পর্বে চিটাগং ভাইকিংসের করা ২০৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমেই স্কোরকার্ডে ১৭১ জমা করে সিলেট সিক্সার্স। দুই দল মিলে করেছিল ৩৮২ রান।

৪৮৫- এবারের বিপিএলে ১১ ম্যাচ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৮৫ রান করেন ক্রিস গেইল। বিপিএল ইতিহাসের এক আসরে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। মাত্র দুই রানের জন্য শীর্ষস্থান দখল করতে পারেননি তিনি। ৪৮৬ রান নিয়ে এক আসরে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছেন পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদ