কুমিল্লার জন্য কেমন ছিল বিপিএলের এ আসর?

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● অনেক আলোচনা সমালোচনা পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের পর্দা নামেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা ও রংপুরের মধ্যে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। এবারের বিপিএলে দুর্দান্ত ফরমে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কোয়ার্টার ফাইনাল রংপুরের কাছে বিতর্কিত হারের মধ্য দিয়ে বিদায় নিয় সোমবার।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল কুমিল্লার অধিনায়ক জাতীয় দলের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। কুমিল্লার হাল ধরে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তামিমরা। কিন্তু ৮ ডিসেম্বর প্রথম এলিমিনেটর পর্বে ঢাকা ডাইনামাইটসের কাছে হেরে যায় কুমিল্লা।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ থাকায় সোমবার কোয়ার্টার ফাইনালে রংপুরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল কুমিল্লা। কিন্তু সোমবারের কোয়ার্টার ফাইনালে রংপুরের কাছেও হেরে যায় দলটি। তারপরও ১২ ম্যাচে ৯টিতে জয় পেয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

এবারের বিপিএলে অধিনায়ক তামিম ও কুমিল্লা: সিলেটের মাটিতে সিলেটের বিপক্ষে প্রথম মেচেই ৪ উইকেটে হেরে যায় কুমিল্লা। ওই ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন আফগান ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবি। কারণ তামিম দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইনজুরিতে পড়েছিলেন। এই ম্যাচে কুমিল্লার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন মারলোন স্যামুয়েলস। ৪৭ বলে ৬০ রান করেন তিনি। আর দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে লিটন দাস ২১, অলক কাপালি ২৬ রান এবং ইমরুল কায়েস ১২ রান সংগ্রহ করেন।

এরপরই শুরু হয় কুমিল্লার টানা জয়।প্রথম ম্যাচে ব্রাভো ২টি এবং একটি করে উইকেট শিকার করেন নবি ও রশিদ খান।

দ্বিতীয় ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে ৮ উইকেটে হারায়। এই ম্যাচেও অধিনায়ক ছিলেন মোহাম্মদ নবি। এই ম্যাচে কুমিল্লার ইনিংসে ব্যক্তিগত ২৩ রান লিটন দাস, জোস বাটলার ৪৮ রান, ইমরুল কায়েস ৩৩ রান, মারলোন স্যামুয়েলস ৩৫ রান সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাভো ২টি এবং একটি করে উইকেট শিকার করেন নবি ও আল আমিন হোসেন।

তৃতীয় ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয় পায় কুমিল্লা। এই ম্যাচেও অধিনায়ক আফগান ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবি। লিটন দাস ২৩ রান, জোস বাটলার ৫০ রান এবং ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ইমরুল কায়েস। এই ম্যাচে নবি ৩টি এবং একটি করে উইকেট শিকার করেন ব্রাভো, রশিদ খান ও আল আমিন হোসেন।

চতুর্থ ম্যাচে চিটাগংয়ে বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় পায় কুমিল্লা। এই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ইমরুল কায়েস।

এই ম্যাচে ইমরুল ৪৫ এবং বাটলার ৪৪ রান সংগ্রহ করেন। কুমিল্লার চতুর্থ ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় তামিমের বিপিএল। তৃতীয় জয়ের ম্যাচে লিটন দাস ২১ এবং স্যামুয়েলস ১৭ রান সংগ্রহ করেন। তবে ইনজুরি থেকে ফিরেই অধিনায়কের দায়িত্ব নেননি তামিম। ওপেনিংয়ে নেমে ব্যক্তিগত ৪ রানে ফিরে যার তিনি। এই ম্যাচে একটি করে উইকেট শিকার করেন ব্রাভো, রশিদ খান, সাইফুদ্দিন ও নবি।

কুমিল্লার পঞ্চম ম্যাচ এবং চতুর্থ জয়ের ম্যাচ দিয়ে তামিমের অধিনায়কত্ব শুরু হয় এবারে বিপিএলে। তামিমের নেতৃত্বে এই ম্যাচে ১৪ রানের জয় পায় কুমিল্লা। জয়ের এই ম্যাচে তামিম ২১ রান, লিটন দাস ১১ রান, ইমরুল কায়েস ৪৭ রান, বাটলার ১ রান, স্যামুয়েলস ৪১ রান, শোয়েব মালিক ৯ রান, সাইফুদ্দিন ১৬ রান এবং হাসান আলী ২ রান। এই ম্যাচে ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন রশিদ খান ও মেহেদি হাসান। আল আমিন হোসেন ও হাসান আলি একটি করে উইকেট পান।

নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পায় কুমিল্লা। এই ম্যাচে অধিনায়ক তামিম ১৮ রান, ইমরুল কায়েস ২০ রান, শোয়েব মালিক ৫৪ রান, ড্যারেন ব্রাভো ১২ রান, জোস বাটলার ১১ রান, সাইফুদ্দিন ৪ রান এবং মেহেদি হাসান ৩ রান সংগ্রহ করেন। এই ম্যাচে হাসান আলী ৫ উইকেট ও সাইফুদ্দিন ২ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া একটি উইকেট শিকার করেছেন রশিদ খান।

সপ্তম ম্যাচে কুমিল্লার টানা জয়রথ থামায় রাজশাহী কিংস। এই ম্যাচে কুমিল্লাকে ৩০ রানে হারায় রাজশাহী। এই ম্যাচে ৪৫ বলে ৬৩ রানের দুর্দান্ত একটা ইনিংস খেলেন ওপেনার ও অধিনায়ক তামিম। এছাড়া শোয়েব মালিক ৪৫ রান, বাটলার ১৫ এবং হাসান আলী ১৬ রান সংগ্রহ করেন। বাকিরা দুই অংকে পৌঁছাতে পারেননি। এই ম্যাচে সাইফুদ্দিন ৩টি, হাসান আলী ২টি ও আল আমিন হোসেন ১টি উইকেট শিকার করেন।

অষ্টম ম্যাচে আবারও জয় শুরু হয় কুমিল্লার। খুলনার বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয় পায় তামিমদের দল। ওপেনার লিটন দাস ২১ রানে ফিরলেও ৪২ বলে ৬৪ রানে দলকে জেতানোর পর মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক তামিম। তামিমকে সঙ্গ দিতে আসা ইমরুল কায়েসও ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই ম্যাচে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন শোয়েব মালিক ও আল আমিন হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেট শিকার করেন হাসান আলী, ব্রাভো, সাইফুদ্দিন ও মেহেদি হাসান।

নবম ম্যাচটি ঢাকার বিপক্ষে খেলে কুমিল্লা। এই ম্যাচে ১২ রানে জিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখে কুমিল্লা। এই জয়ের ম্যাচে তামিম ৩৭ রান, লিটন দাস ৩৪ রান, ইমরুল কায়েস ২৬ রান, মারলোন স্যামুয়েলস ৩৯ রান সংগ্রহ করেন। আর বাকিরা দুই অংকে পৌঁছাতে পারেননি। এই ম্যাচে ব্রাভো ৩টি, সাইফুদ্দিন ২টি এবং একটি উইকেট শিকার করেন শোয়েব মালিক।

নিজেদের দশম ম্যাচে রংপুরকে ৪ উইকেটে হারায় কুমিল্লা। এই জয়ের ম্যাচে তামিম ইকবাল ২২ রান, ইমরুল কায়েস ১৪ রান, শোয়েব মালিক ২০ রান, মারলোন স্যামুয়েলস ১৬ রান সংগ্রহ করেন। অন্যরা দুই অংক পৌঁছাতে পারেননি। এই ম্যাচে মেহেদি হাসান ৪ উইকেট, সাইফুদ্দিন ৩ উইকেট আর ১টি উইকেট শিকার করেন আল আমিন হোসেন।

এরপর গ্রুপ পর্বের একাদশ ম্যাচে খুলনার কাছে ১৪ রানে হেরে যায় কুমিল্লা। এই হারের ম্যাচে তামিম ৩৬ রান, ইমরুল ২০ রান, বাটলার ১১ রান, শোয়েব মালিক ৩৬ রান, মারলোন স্যামুয়েলস ২৫ রান এবং রকিবুল হাসান ১৭ রান দলে যোগ করেন। বাকিরা দুই অংকের ঘরে পৌঁছা্তে ব্যর্থ হয়েছে। এই ম্যাচে আল আমিন হোসেন ৩টি উইকেট নেন। আর একটি করে উইকেট শিকার করেন শোয়েব মালিক ও সোলমান মির।

আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিলেটকে হারায় কুমিল্লা। নিজেদের দ্বাদশ ম্যাচে কুমিল্লার নেতৃত্ব দেন শোয়েব মালিক।

এই ম্যাচে একাদশে ছিলেন না তামিম। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ওপেনার লিটন দাস ৪৩ বলে ৬৫ রান সংগ্রহ করেন লিটন দাস। এছাড়া স্যামুয়েলস ৫৫ রান এবং অধিনায়ক শোয়েব মালিক ২৮ রান সংগ্রহ করেন। এই ম্যাচে গ্রায়েম ক্রিয়েমার ৩টি উইকেট শিকার করেন। আর ২টি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদি হাসান ও হাসান আলী।

এরপর শুরু হয় এলিমিনেটর পর্ব। এলিমিনেটর পর্বে ঢাকার কাচে ৯৫ রানে হেরে যায় কুমিল্লা। এই ম্যাচে অধিনায়ক তামিম ৩১ রান, হাসান আলী ১৮ রান এবং মেহেদি হাসান ১৫ রান সংগ্রহ করেন। বাকিরা দুই অংকে পৌঁছাতে পরেনি। এই ম্যাচে হাসান আলী ৩টি এবং ব্রাভো ২টি উইকেট শিকার করেন। আর ঢাকার আরেকটি উইকেট নেন ব্রাভো।

আর কোয়ার্টার ফাইনালে রংপুরের কাছে ৩৬ রানে হেরে বিপিএল থেকে বিদায় নিয়েছে কুমিল্লা। এই ম্যাচে অধিনায়ক তামিম ৩৬ রান, লিটন দাস ৩৯ রান, শোয়েব মালিক ১০ রান, স্যামুয়েলস ২৭ রান, বাটলার ২৬ রান দলে যোগ করেন। আর বাকিরা দুই অংকে পৌঁছাতে পারেননি। কোয়ার্টার ফাইনালে একটি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদি হাসান, হাসান আলী ও সাইফুদ্দিন।