‘ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই মীমকে হত্যা করি’

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লার চান্দিনায় হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে অবশেষে উন্মোচিত হলো শিশু মীম হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মূল আসামি ওমর ফারুককে (১৯) আটক করার পর সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। ওমর ফারুক চান্দিনা পৌরসভার বেলাশহর গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে। পেশায় গাড়িচালক।

গত রোববার রাতে তাকে আটক করার পর সোমবার বেলা ২টায় ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লব কুমার দেবনাথের আদালতে হাজির হয়ে ১৬৪ ধারায় লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় সে।

তার জবানবন্দীতে জানা যায়, নিহত শিশু সুবর্ণা আক্তার মীমের পাশের বাড়ির বাসিন্দা ওমর ফারুক। সে একটি প্রাইভেটকার ভাড়ায় চালাত। ঘটনার দিন গত ৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে ওমর ফারুক তার প্রাইভেটকারটি ওয়াশ করছিল। গাড়ি দেখে মীম এগিয়ে গেলে তাকে গাড়িতে চড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে পুকুর থেকে পানি সরবরাহ করিয়ে গাড়ি ওয়াশ করে চালক ওমর ফারুক। দুপুর ১২টার কিছু পর গাড়ি ওয়াশ শেষে ওমর ফারুক তার কথামতো মীমকে গাড়িতে উঠিয়ে বেলাশহর আরএনআর ব্রিকস ফিল্ড-সংলগ্ন স্থানে এনে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এ সময় মীম চিৎকার করে অচেতন হয়ে পড়লে গাড়িচালক ওমর ফারুক তাকে ওড়না দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা শেষে গাড়ির পেছনের বক্সে লুকিয়ে রেখে গাড়িটি তার গ্যারেজে রেখে দেয়।

প্রায় ৭ ঘণ্টা শিশুটির লাশ গাড়িতে থাকার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গাড়িতে পাশের থানগাঁও গ্রামের মাস্টার বাড়িসংলগ্ন একটি খালপাড়ে শিশু মীমের লাশ ফেলে আসে।

বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ওই গাড়িচালক তার গোপন একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে শিশু মীমের বাবা কোরবান আলীকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে সিমকার্ডটি ফেলে দেয়।

প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার পর থেকে শিশু মীমকে খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পাশের গ্রামের থানগাঁও ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।