কুমিল্লা-রংপুর ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্কের ঝড়

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● এবারের বিপিএলে একের পর এক বিতর্ক চলছেই। মাঠের পিচ, আম্পায়ারিং, সিদ্ধান্ত, সব কিছু যেন বিতর্কে একাকার হয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি বির্তকের জন্ম দিয়েছে আম্পায়ারিং। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েই চলছে তারা। কখনো ভুল আউট দেওয়া, কখনো আউট না দেওয়া, কখনো নিশ্চিত বল ওয়াইডের সংকেত দেওয়া।

আবার কখনো সাত বলে ওভার দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে।আর সেই বিতর্ক থেকে বাদ গেলনা রংপুর-কুমিল্লার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটও। সবার সামনে দিয়ে ওয়াইড বলকে যখন রাইট ঘোষনা করা হয় তখন আম্পায়ারের চোখের দৃষ্টি নিয়ে কথা তোলাই যায়।

ব্যাটিংয়ে তখন স্যামুয়েলস। বোলিংয়ে উদানা। সেই ওভারে প্রকাশ্য দিবালোকের মত দুইটি বল নিশ্চিত ওয়াইড ছিল। কিন্তু আম্পায়ার সেটাকে বল ঘোষনা করেই খালাস।

এমন ক্লোজ ম্যাচে কিংবা এমন গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে এক একটি বল যেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ন সেখানে নিশ্চিত ওয়াইড দুটি বলকে রাইট দিয়ে দেন আম্পায়ার। এভাবে ভুল সিদ্ধান্ত হতে থাকলে বিতর্ক কোথায গিয়ে থামবে কে জানে?

বিপিএলকে মনে করা হয় আইপিএল, বিগব্যাশের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট লিগ। কিন্তু ফ্রেঞ্চাইজিভিত্তিক এই ক্রিকেট লিগের আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে যখন তখন। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন আম্পায়াররা। এ নিয়ে অসন্তোষ ছিলো আগে থেকেই।

এদিকে বিপিএলে দুই অভিজ্ঞতাই হয়েছে মেহেদী হাসানের। বাজে আম্পায়ারিংয়ে গত ১৮ নভেম্বর রংপুরের সাথে প্রথম ম্যাচে ক্রিস গেইলের উইকেটটি নিজের করে নিতে পারেননি, ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে তা অকপটেই বলেছিলেন কুমিল্লার তরুণ অফ স্পিনার। আবার আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তে গত ৬ ডিসেম্বর সিলেট সিক্সার্সের ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেটটা উপহার পেয়েছেন!

এখানে মেহেদীর কোনো দায় নেই। উইকেট পেতে মরিয়া একজন বোলার স্বাভাবিকভাবেই জোরালো আবেদন করবেন। তাতে সাড়া দেওয়া ঠিক হবে নাকি ভুল, সেটি বিচারের ভার আম্পায়ারের। এই বিচারটাই ঠিকভাবে যে করতে পারছেন না আম্পায়াররা, এবারের বিপিএলে সেটি নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে।

আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চট্টগ্রাম পর্বেও। ২৫ নভেম্বর রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ইমরুল কায়েসের এলবিডব্লু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আপত্তিই তোলেন পেসার আল আমিন, ‘মিসিং স্টাম্প ম্যান! হিটিং ফাইভ অর সিক্সথ স্ট্যাম্প। আই থিংক সো!’

আম্পায়ারিং নিয়ে এর চেয়ে বাজে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামেই।

যে ঘটনায় বিতর্কিত হয়েছেন টিভি আম্পায়ারও। রংপুরের বিপক্ষে সিলেট পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বীকে ৭ বলে ওভার শেষ করতে হয়েছে! ফিল্ড আম্পায়াররা বল গুনতে ভুল করায় তৃতীয় আম্পায়ারের সহায়তা চান কামরুল। ফিল্ড আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান ও রেনমোরে মার্টিনেজ তৃতীয় আম্পায়ার গাজী সোহেলের শরণ নিলেও ভুল সংশোধন করা যায়নি। কামরুলকে ৭ বলের ওভার করতে হয়েছে! বিসিবির কাছে আবেদন করে এ ঘটনার সমাধান পায়নি সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি।

মাঠে বাজে আম্পায়ারিংয়ের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জরিমানা গুনেছেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান ও লিটন দাসদের মতো জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা।

প্লে অফ খেলার আগেই বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। গত শুক্রবার কুমিল্লা মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটসের। তার আগে বৃহস্পতিবার মিরপুর একাডেমি মাঠে অনুশীলন করে কুমিল্লা। অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কুমিল্লার কোচ।

এ সময় আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আম্পায়ারিংয়ের বিষয়টি তো আসলে আমাদের হাতে নেই। কে আম্পায়ারিং করবে এটা নিয়ে ভেবে তো আমরা আমাদের খেলা নষ্ট করতে পারি না। আমরা তো আশা করি যারা ভালো আম্পায়ার, তারা এ ধরনের টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করবে। আমার মনে হয় না এবার যারা আম্পায়ারিং করছে, তারা আগে এই পর্যায়ে আম্পায়ারিং করেছে। আশা করি বিসিবি তাদেরকেই দায়িত্ব দিবে যারা ভালো করে বা বিদেশ থেকে ভালো আম্পায়ার আনবে।’

এর আগে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বে ঢাকার বিপক্ষে গত ম্যাচে লড়ার সময় বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হতে হয়েছে রংপুর রাইডার্সকে। ওই ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে ৪৩ রানে পরাজিত হয়ে বিপিএল ২০১৭ আসরের প্রথম রাউন্ড শেষ করে রংপুর রাইডার্স। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আম্পায়ারিং নিয়ে নিজের হতাশার কথা ব্যক্ত করেন ম্যাককালাম।

আম্পায়ারিং প্রসঙ্গে ম্যাককালাম বলেন, ‘টুর্নামেন্ট যতই শেষ দিকে আসছে, আমার মনে হয়েছে আম্পায়ারিং আরও ভাল হওয়া উচিত। এ রকম উইকেটে সিদ্ধান্ত আপনার পক্ষে না গেলে বড় মূল্য দিতে হয়।’

দেশি আম্পায়ারদের বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই এবারের আসরে বিতর্কিত তবে কি বিসিবির উচিত বিদেশি আম্পায়ারদের উপর গুরুত্ব দেওয়া এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘আমার মনে হয় না বাইরের আম্পায়ারদের ওপর এটা নির্ভর করছে। আমার মনে হয় বাংলাদেশেও বেশ ভাল আম্পায়ার আছে।’

বাংলাদেশের আম্পায়ারদের ওপর আস্থা রাখলেও বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে সবদিক বিবেচনা করে আম্পায়ারদের মান অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের। ‘আমার মনে হয় সামনে বড় ম্যাচে চাপ থাকবে। এ সময় আম্পায়ারদের মানের দিকে একটু খেয়াল রাখা উচিত। অনেক মানুষ খেলা দেখছে পুরো দেশজুড়ে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে। আমার মনে হয় দেশি আম্পায়াররাই কাজটা করতে পারে।’