ঢাকার দুই খেলোয়াড়ের হাতাহাতি!

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ( বিপিএল ) গ্রুপ পর্ব শেষে চারদল এখন ফাইনাল স্বপ্নে বিভোর। আজ শুক্রবার শুরু হয়ে যাবে ফাইনালে ওঠার লড়াই। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মুখোমুখি হচ্ছে ঢাকা ডায়নামাইটস। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অনুশীলনে মেজাজ হারালেন ঢাকা ডায়নামাইটসের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। অনুশীলনে রীতিমত হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন এই দু’জন। যদিও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত জানিয়েছেন এটা নিছক মজা ছিল। অনুশীলনে এভাবেই মজা করেন তারা। বৃহস্পতিবার মিরপুর একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। অনুশীলনের অংশ হিসেবে ফুটবল খেলতে থাকেন ঢাকা ডায়নামাইটসের ক্রিকেটাররা। একটা পর্যায়ে দেখা যায়, মোসাদ্দেকের ওপর ক্ষেপে গেছেন আমির। মূলত খেলার সময় মোসাদ্দেকের করার ট্যাকল পছন্দ হয়নি আমিরের।

তাতে মোসাদ্দেককে উদ্দেশ্য করে কিছু বলে ওঠেন মেজাজ হারানো আমির। মোসাদ্দেকও কিছু একটা বলছিলেন। এসময় মোসাদ্দেককে ধাক্কা দিয়ে বসেন আমির। এমন অবস্থায় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার যারা আছেন, সাকিব আল হাসান, শহীদ আফ্রিদি এগিয়ে যান। দুজনকে ঠান্ডা করে হাত মিলিয়ে দেন। যদিও মোসাদ্দেক বলছেন এমন কিছুই নয়। সবটাই মজা ছিল।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকার এই তরুণ এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমাদের সিনিয়র কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন দলে। রনি, মারুফ ভাই, আমি সরাদিন একেকজনের পেছনে লেগে থাকি। সারাদিন ফাজলামি-দুষ্টুমি করি। ওটা আমাদের একটা দুষ্টুমির মতোই। সিরিয়াস কিছু না। আমরা শুধু মজা করছিলাম। এছাড়া কিছুই না।’

এদিকে শেষ দিকে চলে এসেছে বিপিএল। অথচ এই শেষ দিকেই ঢাকার আবহাওয়ায় চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি! আবহাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন ঢাকায় বৃষ্টিপাতের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাইলজ অনুযায়ী এবার প্লে-অফ ম্যাচে কোনও রিজার্ভ ডে রাখেনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। তবে ১২ ডিসেম্বরের ফাইনালে রিজার্ভ ডে রেখেছে বিপিএল কর্তৃপক্ষ।

এই অবস্থায় বিপাকে পড়েই নিয়ম পাল্টাতে চাইছে গভর্নিং কাউন্সিল। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় শুক্রবার মিরপুরে অনুষ্ঠিতব্য চারটি ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাঠে না গড়ালে বাইলজের নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলগুলো বাড়তি সুবিধা পাবে।

তাই এই প্লে-অফে রিজার্ভ ডে রাখতে চারটি দলকেই চিঠি দিয়েছে গভর্নিং কাউন্সিল। যদিও জানা গেছে, বাকিরা এতে সম্মত হলেও এর বিপক্ষে আপত্তি তুলেছে শীর্ষে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তারা এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়ে রেখেছে! যদিও শেষ পর্যন্ত আসলে কী হয় সেটাই এখন দেখার।

শুক্রবার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ঢাকা ডায়নামাইটস। বৃষ্টিতে ম্যাচটি কোনও কারণে অনুষ্ঠিত না হলেও পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকা কুমিল্লা সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে। তাতে না খেলেই কপাল পুড়বে ঢাকা ডায়নামাইটসের। কেননা কুমিল্লার চেয়ে তিন পয়েন্ট কম নিয়ে তাদের অবস্থান দুই নম্বরে।

অন্যদিকে এলিমিনেটরে খেলা দুটি দলও সমস্যার মুখে পড়বে। একই দিন শুক্রবার দুপুরে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা খুলনা টাইটানসের মুখোমুখি হবে চতুর্থ স্থানে থাকা রংপুর রাইডার্স। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি না হলেও খুলনার পয়েন্ট ১৫ হওয়ায় সরাসরি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে উঠে যাবে। সেক্ষেত্রে ম্যাচ না খেলেই কপাল পুড়বে রংপুর রাইডার্সের।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। শুক্রবার এই দলের বিপক্ষেই প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে নামবে ঢাকা। লিগ পর্বে মুখোমুখি প্রথম ম্যাচ ৪ উইকেটে হারের পর ফিরতি ম্যাচে ঢাকাকে মাঠ ছাড়তে হয় ১২ রানে হেরে। শুক্রবার তৃতীয়বার মুখোমুখি হওয়ার আগে সে কারণেই কুমিল্লার বিপক্ষে নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে দেখছেন ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার বিকালে অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন মাহমুদ। সেখানেই কুমিল্লার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বলেছেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে কাল (শুক্রবার) আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলব। কুমিল্লা আমাদের বিপক্ষে দুটো ম্যাচই জিতেছে। দারুণ খেলছে।

তিনি বলেন, আমরাও ভালো খেলছি, তবে আমাদের ধারাবাহিকতার একটু অভাব ছিল। দুই ভেন্যুতে দুই শ রানের উপরে করেছি, আবার কিছু ম্যাচে দেড় শ রানের কমও করছি। তো ওই জায়গায় একটু ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।’

কুমিল্লা ১২ ম্যাচে ৯টিতে জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ালিফায়ার খেলবে ঢাকার বিপক্ষে। সমান ম্যাচে ঢাকার পয়েন্ট ১৫।

প্রতিপক্ষ হিসেবে কুমিল্লা কতটা শক্তিশালী, এমন প্রশ্নে মাহমুদের জবাব, ‘প্রতিপক্ষকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না্, কেবল নিজেদেরটাই করতে পারব। যখন টপ অর্ডার পারফর্ম করে, তখন বেশি কিছু লাগে না। আমাদের টপ অর্ডার ভালো করলে আর কোনও দুচিন্তা নেই।’

মিরপুরে টস জেতা দলই বেশিরভাগ ম্যাচ জিতেছে। সেক্ষেত্রে টস জেতাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার কোচ অবশ্য টস নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না, ‘টসটা আসলে মাথায়ই নেই। গেম প্লানই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রতিপক্ষ কে, কতটা রিড করতে পারছেন, সেটাই বড় ব্যাপার। আগে ব্যাটিং কিংবা পরে ব্যাটিং বিষয় না, শুরুটা ভালো করা জরুরি।’

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিদেশিদের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্স আশা করছেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘ (বুধবার) সাকিব দায়িত্ব নিয়েছিল, আমি চাই আমার বিদেশি খেলোয়াড়রাও এমন দায়িত্ব নিয়ে খেলুক। আমি বলছি না যে, আলাদা বাড়তি দায়িত্ব। আমি চাই তারা খেলা উপভোগ করুক। মাঠে ফল কী হয় না হয়, সেটা পরের ব্যাপার। কিন্তু উপভোগ করুক।’

উইকেট নিয়েই খালেদ মাহমুদ জানালেন ভিন্ন মত। দায় দিলেন ব্যাটসম্যানদের। উইকেটের আচরণ যে অস্বাভাবিক, সেটা মানছেন মাহমুদও। তবে সেটাকে বড় কিছু মনে করছেন না এই বোর্ড পরিচালক।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) মনে করা হয় আইপিএল, বিগব্যাশের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট লিগ। কিন্তু ফ্রেঞ্চাইজিভিত্তিক এই ক্রিকেট লিগের আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে যখন তখন। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন আম্পায়াররা। এ নিয়ে অসন্তোষ ছিলো আগে থেকেই। এবার অসন্তোষ প্রকাশ করলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবার লিগ পর্বে এক নম্বরে থেকে ওঠেছে প্লে অফে। শুক্রবার তারা ফাইনালে উঠার ম্যাচে মুখোমুখি হবে ঢাকা ডায়নামাইটসের। তার আগে বৃহস্পতিবার মিরপুর একাডেমি মাঠে অনুশীলন করে কুমিল্লা। অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কুমিল্লার কোচ। এ সময় আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আম্পায়ারিংয়ের বিষয়টি তো আসলে আমাদের হাতে নেই।

কে আম্পায়ারিং করবে এটা নিয়ে ভেবে তো আমরা আমাদের খেলা নষ্ট করতে পারি না। আমরা তো আশা করি যারা ভালো আম্পায়ার, তারা এ ধরনের টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করবে। আমার মনে হয় না এবার যারা আম্পায়ারিং করছে, তারা আগে এই পর্যায়ে আম্পায়ারিং করেছে। আশা করি বিসিবি তাদেরকেই দায়িত্ব দিবে যারা ভালো করে বা বিদেশ থেকে ভালো আম্পায়ার আনবে।’

এবারের বিপিএলে আম্পায়ারিংয়ের মান কেমন, তার একটা প্রমাণ পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম পর্বে রংপুর রাইডার্স ও সিলেট সিক্সার্সের ম্যাচে।

সেই ম্যাচে সাত বলে ওভার দেন এক আম্পায়ার। বিষয়টি নিয়ে বোলার আপত্তি জানালে মাঠের আম্পায়ার থার্ড আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে থার্ড আম্পায়ারও সাত বলে ওভারের সিদ্ধান্ত দেন! এ ছাড়া এলবিডব্লিউ আউটের ক্ষেত্রেও প্রচুর ভুল সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন আম্পায়াররা। এ নিয়ে বারবার বিদেশি খেলোয়াড়, দেশি খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন দলের উচ্চ পর্যায় থেকে আপত্তি শোনা গেছে।

আম্পায়ারিংয়ের বিষয়টি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ানোর আরো একটা কারণ হলো, শনিবার থেকে শুরু হবে বিপিএলের প্লে অফ। এ পর্যায়ে একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কোনো দল ছিটকে যেতে পারে শিরোপার দৌড় থেকেই।

এদিকে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলেই ফাইনালে উঠতে চোখ রাখছে গ্রুপ পর্বের দাপুটে দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। পঞ্চম আসরের শুরুটা হার দিয়ে করলেও পরের ম্যাচেই ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে তামিম ইকবালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত এই দলটিকে গ্রুপ পর্বে হারের গ্লানি সইতে হয়েছে আর মাত্র ২টি ম্যাচে। বাকি ৯টিতেই এসেছে ধরা দিয়েছে জয়। সেখানে থেকেই শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে নামছে কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের শিষ্যরা। লিগ পর্বে দু’বারই ঢাকাকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে কুমিল্লা। দর্শক বিবেচনা এবং মাঠের রণকৌশলে শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে জয়ের সেই স্মৃতি সন্দেহাতীতভাবেই কুমিল্লা শিবিরে এখনও তরতাজা।

সেই স্মৃতি রোমন্থন করে হলেও এই ম্যাচে নির্ভার কিন্তু তামিমরাই থাকছেন। বৃহস্পতিবার অনুশীলনে কোচ সালাহউদ্দিনও তেমনটিই জানালেন, ‘আমরা আগে যে পরিকল্পনা করেছি, সেই একই মনমানসিকতা নিয়ে যাচ্ছি। আমরা প্রতিটা ম্যাচ খেলি ওইভাবে যে একটা ম্যাচ হেরে গেলেই আমরা টুর্নামেন্ট থেকে আউট হয়ে যাব।’

সালাহউদ্দিনের কথা শুনে মনে হতে পারে তিনি অতি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু তিনি মোটেও তা নন।

বরং ভীষণ বাস্তববাদী। জয় পরাজয় নিয়ে অতিরিক্ত স্নায়ুচাপে না ভুগে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলতে চান। এরপর ফলাফল কী হবে না হবে সেটা নিয়ে ভাবতে তিনি মোটেই আগ্রহী নন। ‘আমি ওইভাবে চিন্তা করছি না যে আমাদের আরেকটা ম্যাচ আছে। আমি চিন্তা করছি যে আমাদের একটা ম্যাচই আছে। ওটা আমরা কিভাবে ভালোভাবে খেলতে পারি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে।’ প্রথম কোয়ালিয়াফার ম্যাচে হেরে গেলেও ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে না।

পয়েন্ট টেবিলের তিন ও চার নম্বর দলের মধ্যকার এলিমিনেটর ম্যাচ জয়ীর বিপক্ষে খেলতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট।

লিগ পর্ব শেষে শুক্রবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচ। দিনের প্রথম ম্যাচটি হবে এলিমিনেটরের। সেখানে মুখোমুখি হবে লিগ পর্বে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় ও চতুর্থস্থান পাওয়া যথাক্রমে খুলনা টাইটান্স ও রংপুর রাইডার্স। ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টায়।

সন্ধ্যা ৭টায় দিনের অন্য ম্যাচে, অর্থাৎ প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে লড়বে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে দুই দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ঢাকা ডায়নামাইটস। ১২ খেলায় ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে লিগ পর্বের খেলা শেষ করে তামিম ইকবালের কুমিল্লা। আর ১২ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থান পায় সাকিব আল হাসানের ঢাকা। তাই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দু’দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম কোয়ালিফাইয়ার। প্রথম কোয়ালিফাইয়ারের ম্যাচের বিজয়ী দল টিকিট পাবে ফাইনালের।

তবে হেরে গেলেও, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিবে না তারা। হেরে যাওয়া দলটি চলে যাবে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে। সেখানে এলিমিনেটরের বিজয়ী দলের বিপক্ষে লড়বে তারা। শীর্ষে দুইয়ে থাকার কারণে এই সুবিধা পাচ্ছে কুমিল্লা ও ঢাকা।

তবে এলিমিনেটরের খুলনা ও রংপুরের জন্য নক আউটের ম্যাচ। এ ম্যাচে হেরে গেলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে একটি দলকে। জয় পাওয়া অন্য দলটি টিকিট পাবে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারের ম্যাচ খেলার জন্য।

লিগ পর্বে দু’বার একে অপরের মুখোমুখি হয় কুমিল্লা ও ঢাকা। দু’বারই জয় পায় কুমিল্লা। গত ২০ নভেম্বর ঢাকায় স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারায় কুমিল্লা। এরপর গত ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের মাটিতে ঢাকাকে ১২ রানে হারায় কুমিল্লা। তাই প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে কুমিল্লার বিপক্ষে প্রতিশোধ নেয়ার মিশনও রয়েছে ঢাকার। লিগ পর্বে দু’বার মুখোমুখি হয়েছে খুলনা ও রংপুর। ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে এবারের আসরে প্রথম দেখায় জয় পায় খুলনা।

৯ রানে ওই ম্যাচটি জিতে নেয় খুলনা। তবে ঢাকায় ৩ ডিসেম্বর খুলনাকে ১৯ রানের ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয় রংপুর। তাই দু’দলের মুখোমুখি দেখায় হার-জিত সমান থাকলেও, এলিমিনেটরে জয় ছাড়া অন্যকিছুই ভাবছে না খুলনা ও রংপুর। কারণ, এ ম্যাচ হেরে গেলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে।

এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফাইয়ারের পর আগামী ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আর টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে আগামী ১২ ডিসেম্বর। ফাইনালের জন্য পরের দিন রিজার্ভ ডে’ও রাখা হয়েছে।