নীতির রাজার অনিয়ম দূর্ণীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ● সবাইকে নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করার নীতি কথা বলেই অনিয়ম করেন তিনি। এ যেন নীতির রাজার অনিয়ম দূর্ণীতি। প্রথমে তিনি অধীনস্থদের কাছে ছিলেন নীতিবান অফিসার।

এখন তাঁদের কাছে তিনি দূর্ণীতি-অনিয়মের হেড কোয়ার্টার। শুরুতে উনার নীতি কথা শুনে যাদের শ্রদ্ধা জেগেছিল। তাদের কাছে তিনি এখন ঘৃনিত ব্যক্তি। তাঁর ভয়েই তটস্থ অধীনস্থরা। যাকে নিয়ে এত অভিযোগ অনুযোগ আর আতঙ্ক তিনি দেব দাস দেব। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও)।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য খাতের এই কর্মকর্তা গত ২৯ সেপ্টেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে মিটিং করেন।

এর বাইরে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিকদের সাথেও মিটিং করেন। এসময় তিনি সবাইকে নীতি আদর্শ মতে চলা ও অনিয়ম-দূর্ণীতি থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন। কিন্তু কয়েকদিন গড়াতেই তিনি তাঁর আসল রুপ চেনান। অল্প কয়েকদিনেই উপজেলার স¦াস্থ্য সেবাকে অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে রুপান্তর করে তোলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩ ডিসেম্বর সকাল ৯.৫৪ মিঃ উপজেলার আল্ট্রা মর্ডান হসপিটালে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেব দাস দেব। পরদিন ৪ ডিসেম্বর দুপুর ১২.০৭ মিঃ নোভা হসপিটালে আসেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে ওই দু’টো হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের রোগীকে অচেতন করতে এসেছিলেন।

এভাবে প্রতিদিন নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়ার কোন না কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে অস্ত্রেপচারের রোগীদের অজ্ঞান করছেন তিনি। আবার লাকসামের দুরত্ব বেশী হওয়ায় হাসপাতালের সরকারী এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছেন নিয়মিত। ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬.৩০ মিঃ সরকারী এ্যাম্বুলেন্স রোগী নেয়ার কথা বলে তিনি লাকসামের একটি হাসপাতালে অপারেশান করতে যান। একইভাবে ২৬ নভেম্বরও গিয়েছিলেন এবং ব্যক্তিগত কাজে এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করছেন। এভাবেই অনিয়ম করে চলেছেন তিনি।

খুব চতুর এ কর্মকর্তা ডাক্তার থেকে শুরু করে প্রশাসনের ধোঁপার বিলে পর্যন্ত পার্সেন্টেসের ছোঁয়া লাগিয়েছেন। ধোঁপার বিলসহ ল্যাব থেকে শতাংশ হারে এবং অন্যান্য বিলগুলো থেকেও নির্ধারিত পার্সেন্ট নিয়ে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, তিনি প্রশাসনিকভাবে আমাদের বস। এজন্য আমরা কিছু বলতে পারি না। তাছাড়া কিছু বললে তিনি আমাদের ধমকের স্বরে বলেন, আমি স্বাচিবের (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) নেতা আমাকে তোমরা কিছুই করতে পারবেনা বরং তোমরা উল্টো ফেঁসে যাবে। তাহলে বলেন ভাই (প্রতিবেদক) কে উনার সাথে ঝামেলা করতে যাবে। তিনি আমাদেরকে অফিস টাইমে প্রেকটিস করতে নিষেধ করেন। অথচ তিনিই আবার অফিস টাইমে অপারেশান করছেন। ব্যক্তিগত কাজে সরকারী এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছেন।

এসব বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেব দাস দেব এর মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, আপনী একসময় অফিসে আসেন কথা বলবো। এ কথা বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন এবং পরে আর ফোন ধরেননি।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেন, আমি এরকম কোন অনিয়ম দূর্ণীতির খবর জানিনা। কেউ কোন অভিযোগও করেনি। তবে যদি কারো বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমান পাওয়া যায় তাঁকে ছাড় দেয়া হবেনা।