এই ছবির কারনেই ভেঙ্গে গেল শাকিব-অপুর সংসার!

বিনোদন ডেস্ক ● চিত্রনায়িকা বুবলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই ফ্রেমে বন্দি হয়েছিলেন ঢাকাই কিং শাকিব খান। সেই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন বুবলী। ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘ফ্যামিলি টাইম’। এই একটি ছবিতেই বাঁধে বিপত্তি। শাকিবের সঙ্গে শেয়ার করা ছবির ক্যাপশন কেন ফ্যামিলি টাইম সেটি নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন অপু বিশ্বাস।

জানতে চান, শাকিব কিভাবে তার পরিবারের সদস্য হলেন? বুবলীকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন তিনি। এদিকে শাকিব খানের সঙ্গেও অপুর সম্পর্কের অবণতি ঘটতে থাকে। বুবলীর সঙ্গে একই ছবিতে অভিনয়ে বার বার নিষেধ করলেও অপুর সেই নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা করেননি শাকিব। একের পর এক ছবিতে বুবলীর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি। অপু অভিনয়ে ফিরতে চাইলেও বিভিন্ন বাহানায় তাকে দূরে রেখেছেন শাকিব।

নিজেদের ভেতরের সেই দ্বন্দ্বগুলো কাটিয়ে উঠতে না পেরে দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর চলতি বছরের ১০ এপ্রিল হঠাৎ একটি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে ছয় মাসের শিশুসন্তান আব্রাম খান জয়কে নিয়ে শাকিবের সঙ্গে বিয়ের কথা ফাঁস করে দেন অপু বিশ্বাস। জানান, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল, শুক্রবার শাকিবের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের স্থান ছিল শাকিবের বাসা। যেখানে সাক্ষী ছিলেন অপুর মেজো বোন, শাকিবের চাচাত ভাই এবং উকিল বাবা ছিলেন প্রযোজনা ব্যবস্থাপক মামুনুজ্জামান মামুন।

গণমাধ্যমের সামনে ছেলেকে নিয়ে অপুর এমন হাজির হওয়ার ধাক্কা শুরুতে সামলাতে পারেননি শাকিব খান। তিনি অপুকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘জয় আমার সন্তান, কিন্তু আপু আমার স্ত্রী নয়।’ অবশ্য বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে পরবর্তীতে অপুকে স্ত্রীর মর্যাদা দেন তিনি। স্ত্রীর মর্যাদা দিলেও স্ত্রীর অধিকার কতটুকু দিয়েছেন সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। আট বছরের গোপন দাম্পত্য জীবনে শাকিব অপু একসঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকলেও বিয়ের খবর প্রকাশ হওয়ার পর এক ছাদের নিচে থাকা হয়েছে কিনা সেটি তারাই ভালো বলতে পারবেন। কারণ গণমাধ্যমের জানা মতে, অপু ছেলে জয়কে নিয়ে নিকেতনে নিজের ফ্ল্যাটে থাকতেন। বাবার দায়িত্ব পালন করার খাতিরে শাকিব যাবতীয় খরচ দেয়া বাবদ মাঝে মাঝে অপুর বাসায় গিয়ে ছেলের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আসতেন।

এভাবে একদিকে চলতে থাকে শাকিব-অপু দম্পতির নিরব যুদ্ধ, অন্যদিকে চলতে থাকে শাকিব-বুবলী জুটির লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন।

শাকিবের সঙ্গে অপুর বৈবাহিক সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না, এটা মিডিয়ার ওপেন সিক্রেট হলেও অপু বরাবরই সব এড়িয়ে গেছেন। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন শাকিবের সঙ্গে তার ভালো সময় কাটছে। শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে শাকিব দেশের বাইরে থাকায় অপুর বাসায় খুব একটা যেতে পারেন না এমন চিত্রনাট্যই দেখিয়েছেন তিনি।

ছেলের জন্মদিন পালন করা নিয়েও তাদের মধ্যে ঘটে যায় মনোমালিন্য। অপুর আয়োজন করা অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হলেও ছেলেকে বাসায় নিয়ে পিতৃস্নেহ দেন শাকিব খান। প্রথম জন্মদিন উপলক্ষে ছেলের গলায় পরিয়ে দেন সোনার চেইন। অপুর আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচ শাকিব দিলেও তার না থাকা অনুষ্ঠানকে অপূর্ণতা এনে দেয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের দাওয়াতপত্রে শাকিবের ছবি না থাকা অনুপস্থিত থাকার একটি কারণ বলে জানা যায়।

খুঁটিনাটি এসব বিষয়কে পেছনে ফেলে অপু যখন আবার পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তখনও ছিলো শাকিবের আপত্তি। অভিযোগ উঠে, যারা শাকিবের ক্ষতি চান, অপু তাদের সঙ্গেই মিশছেন। স্বামীর শত্রুদের সঙ্গে অপুর মেলামেশা ভালোভাবে দেখেননি কিং খান।

কিছুদিন আগে ছেলেকে বাসায় একা রেখে কলকাতায় গেছেন অপু বিশ্বাস। এই খবর শুনে রেগে যান শাকিব খান। ছেলেকে নিজের কাছে আনতে অপুর বাসায় গিয়ে শাকিব দেখেন ঘর তালাবন্ধ। ঘটনাটি নিকেতন সোসাইটির নেতাদের অবহিত করেন শাকিব। তার প্রশ্ন ‘এক বছরের একটি বাচ্চা ছেলেকে কাজের মেয়ের জিম্মায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে কোনো মা কীভাবে দেশের বাইরে চলে যেতে পারে? এটা সন্তানের প্রতি মায়ের কেমন দায়িত্ব পালন? আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। এটা আমি মানতে পারছি না। আমার ছেলের যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তাহলে এর দায় নেবে কে?’

তখন শাকিব খান বলেছিলেন, ‘ছেলের প্রতি যার দায়িত্ববোধ এটুকুই, তার প্রতি ব্যবস্থা আর কী নেব? তবে আমি এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব।’ সিদ্ধান্তটা কী হতে পারে, তা স্পষ্ট করে না বললেও হয়তো তিনি ডিভোর্সের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

অপুও চুপ থাকেননি। নিজের অবস্থান সকলের কাছে স্পষ্ট করেছিলেন নায়িকা। তার ভাষ্য, ‘মায়ের চেয়ে সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা আর কে করে? সবাই মুখে মুখে মায়াকান্না করে বেড়াচ্ছেন কেন আমি ছেলেকে রেখে একা আসলাম। কিন্তু উত্তরটা কেউ দিচ্ছেন না যে কেন আসলাম? আমার কী কেউ নেই? স্বামী আছে, শ্বশুরবাড়ি আছে। কেন আমাকে একা আসতে হলো? আমার সঙ্গে কেউ থাকলে তো ছেলেকে সঙ্গে আনা যেতই। কাউকে যখন পেলাম না বাধ্য হয়েই ছেলেকে রেখে আসলাম। আর ঠান্ডাজনিত অসুখে জয়ও কিছুদিন ধরে ভুগেছে। তাই একা একা জার্নির ভেতর ওকে এনে কষ্ট দিতে চাইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জয়কে আমি একা রেখে আসিনি। বাসায় তিনজন কাজের মেয়ে আছে। আমার বোন শেলী আপুকে রেখে এসেছি। বাসার ম্যানেজার, দারোয়ান ও আমার গাড়ির ড্রাইভারকে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে এসছি যাতে কোনো সমস্যা না হয়।

একটু পর পর আমি বাসায় কল দিচ্ছি, খোঁজ নিচ্ছি। শাকিবের দায়িত্ব সচেতনতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। সে যদি সবসময় এমন দায়িত্ব সচেতন হতো আমার কোনো দু:খই থাকতো না। সব স্ত্রীরাই চায় তাদের স্বামীরা দায়িত্ববান হবে।’

অবশ্য, এসব ভুল বুঝাবুঝির কয়েকদিন পর ছেলেকে নিয়ে শাকিবের বাসায় যান অপু। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে অনেক আন্তরিকভাবেই কথা বলেছেন তিনি। রাতে বাবা শাকিবের সঙ্গেই ঘুমিয়েছে জয়। সে সময় শাকিবকে একজন দায়িত্ববান বাবা মনে হয়েছে অপুর।

ভালোবেসে বিয়ে। যে বিয়ের জন্য নিজের ধর্ম ত্যাগ করেছেন অপু। সকলকে ছেড়ে ভরসা করেছেন শাকিবকে। অপু বিশ্বাস থেকে হয়ে উঠেছেন অপু ইসলাম খান। বিয়ে, সন্তান জন্ম সবই করেছেন গোপনে। লড়েছেন একা একা। জরুরি প্রয়োজনে পাশে পাননি স্বামীকে। কলকাতার হাসপাতালে সন্তান জন্মের সময় নিজেই নিজের বন সই দেন অপু। দুজনের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করেই এসব সহ্য করেছেন তিনি।

এতকিছুর পরও গুঞ্জনই সত্যি হলো। অপুর বাসায় পোঁছে গেলো শাকিবের দেয়া ডিভোর্স লেটার। যেটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে অপুর। ডিভোর্সের কারণ হিসেবে শাকিব উল্লেখ করেছেন, ছেলেকে একা বাসায় রেখে অপু তার ‘কথিত প্রেমিককে’ নিয়ে ভারতে ঘুরতে গেছেন। যদিও চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন তিনি। অপুর কথিত প্রেমিকের নাম উল্লেখ না করলেও চিত্রনায়ক বাপ্পীর দিকে তীর ছুঁড়ে দেন শাকিব। এই সমালোচনায় পরিবারের পছন্দে নিজের বিয়ের কথা জানান বাপ্পী।

যে তারকাদের ভক্তরা আইডল মনে করে সেই তারকাদেরই বেপরোয়া জীবন তাদের প্রতি তিক্ততা এনে দেয়। নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করে নিজেদের বিতর্কিত করে তোলেন তারা। এখন যদি কেউ শাকিব-বুবলী এবং বাপ্পী-অপুকে জুটি বানিয়ে কাঁদা মাখামাখিতে মত্ত হয় তাতে কারো কিছু বলার বা করার সুযোগ থাকবে না। কারণ তারকারা নিজেরাই সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। এমনও হতে পারে নতুন বাবা-মা পেতে যাচ্ছেন জয়।

এদিকে আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে স্বামী শাকিব খানের পাঠানো তালাকের নোটিশ অবশেষে হাতে পেয়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বুধবার তালাকের নোটিশ হাতে পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন নায়িকা।

গত ২২ নভেম্বর এ নোটিশ পাঠালেও তা প্রকাশ্যে আসে গত সোমবার বিকালে। তার পর থেকেই গত চার দিন ধরে আলোচিত এ জুটির তালাক বিষয়ক ঘটনায় সরগরম গোটা শোবিজ অঙ্গন। গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফলাওভাবে প্রচার করা হচ্ছে শাকিব-অপুর ঘর ভাঙার খবর। এমনকী, কলকাতার পত্রিকায়ও বেরিয়েছে খবর।

এ বিষয়ে বুধবার অপু বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, ‘তালাকের নোটিশ হাতে পেয়েছি। আমার পরিবার আছে, অভিভাবক আছে। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

নিজের সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ২০০৮ সালে শাকিব খানকে বিয়ে করেন অপু বিশ্বাস। কাজেই, এখন সংসার ভেঙে গেলে তার সম্প্রদায় কখনোই আর তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে না বলে বুধবার সাংবাদিকদের জানান অপু। তাই তালাকের মতো এমন ন্যাঙ্কারজনক সিদ্ধান্ত থেকে শাকিবকে সরে আসার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা কামনা করেন। এমনকী, নারী সংগঠনগুলোকেও পাশে চান তিনি।

অপু বিশ্বাসকে তালাক দিতে পারেন স্বামী শাকিব খান। এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে গত ২০ অক্টোবর থেকে। ছেলে জয়কে কাজের মেয়ে শেলীর কাছে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে অপু কলকাতা চিকিৎসা করাতে গেলে ক্ষুব্ধ হন শাকিব খান। তালাবদ্ধ থাকায় অপুর নিকেতনের বাসায় গিয়ে দেখা পাননি ছেলে জয়ের। যার কারণে তিনি থানায় জিডি পর্যন্ত করেন।

তাতে কাজ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শাকিব সাংবাদিকদের ওই সময় বলেছিলেন, ‘অপু মা হিসেবে বিগ জিরো। ছেলের প্রতি তার মায়া-মমতা থাকলে কাজের মেয়ের কাছে এভাবে তালাবদ্ধ করে রেখে কলকাতা যেতে পারতো না। তার বিরুদ্ধে খুব শিগিগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

শাকিবের ওই দিনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও সেটা যে ডিভোর্সের মতোই কিছু সেটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন সকলেই। অবশেষে গত সোমবার তালাকের নোটিশ পাঠানোর খবর জানাজানি হলে সেই ডিভোর্সের আশঙ্কাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আইনে আছে, তালাকের নোটিশ পাঠানোর তারিখ থেকে তিন মাস পরে সেটি কার্যকর হবে। কাজেই, আলোচিত এ জুটির শেষ পরিণতি দেখতে আগামী তিন মাস ধৈর্য ধরতেই হচ্ছে।