কুমিল্লায় ডাক্তারদের ফ্রি স্টাইলে ফি আদায়!

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লায় চিকিৎসার নামে ডাক্তারদের ফ্রি স্টাইলে ফি আদায়ে ভুক্তভোগী রোগীদের পক্ষ থেকে অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা শহরে আতঙ্কের নামে পরিনত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। সরকারি নীতিমালা না থাকার কারনে ইচ্ছেমতো প্রেসক্রিপশন (ব্যবস্থাপত্র) ফি নেয়ায় নিম্নমধ্যম আয়ের পরিবারের ভুক্তভোগী রোগীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

কমিশনের লোভে চিকিৎসকরা অযাচিত ভাবে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে রোগীদের অর্থের অনিষ্ঠ ছাড়াও রোগীকে পর্যাপ্ত সময় না দেয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে বেশিরভাগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ঔষুধ কোম্পানী গুলোর বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনে পড়ে রোগীদের অতিরিক্ত ঔষুধ লিখে দেয়া। মেডিকেল বোর্ড থেকে নিয়মিত তদারকি না করার কারণে দিনের পর দিন ডাক্তাররা চিকিৎসার নামে সাধারন মানুষের পকেট কাটার সুযোগ পাচ্ছে।

এছাড়া যারা রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করছে তাদের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন, চিকিৎসক ও হাসপাতাল মালিকদের আরো মানবিক হওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগী অনেক রোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লার সুশীল সমাজের অনেকে বলেন, শিক্ষা এবং চিকিৎসা যদি পন্য হয়ে যায়, তাহলে তার গুনগত মান থাকে না। দৃষ্টিভঙ্গিতে কেউ লাভবান হয়, কেউ হয় ক্ষতিগস্থ। সাম্যতা, বাস্তবিক অবস্থা ও মানসিকতা থাকেনা। সরেজমিন অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, কুমিল্লা মহনগরীসহ জেলার সব কয়টি উপজেলার প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসকগন ১২০০/- (বারশ টাকা) থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৬০০/- (ছয়শত টাকা) পর্যন্ত ফি আদায়ের একই চিত্র ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার বেশির ভাগ চিকিৎসক দিনে শতাধিক রোগী দেখেন। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি কমবেশি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোনো কোনো চিকিৎসক মাসে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আয় করে থাকেন। ১৯৮৪ সালে চিকিৎসকদের জন্য একটি নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল। ঐ নিতিমালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন ৬০ টাকা ও সাধারণ এমবিবিএস চিকিৎসক ৪০ টাকা ফি নিতে পারবেন বলে নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু এরপর দীর্ঘদিনেও ওই নীতিমালা হালনাগাদ না করায় চিকিৎসকরা ইচ্ছামতো ফি আদায় করছেন।

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. মজিবুর রহমান জানান, সরকারি ভাবে কোনো নীতিমালা না থাকায় যে যেভাবে পারছে তাদের ফি বাড়িয়ে নিচ্ছে। এতে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকদের উচিত, একটা নির্ধারিত মাত্রায় ফি নেয়া। এ জন্য সরকারি একটা নীতিমালা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কোনো কোনো চিকিৎসক অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যা ঠিক নয়। রোগীদের তিনি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সকল প্রকার চিকিৎসা সেবা গ্রহনের পরামর্শ দেন।