এবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হল তামিমকে!

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● বিপিএলে ৫ম আসরের ১ ম্যাচে মুখোমুখি হয় রংপুর এবং কুমিল্লা। সেই ম্যাচে রংপুরকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যায় তামিমের কুমিল্লা। সেই ম্যাচে মাঠের উইকেট ছিলো অনেক নিষ্প্রভ। প্রথম দল রংপুর ৯৭ রানে অলাউট হয়ে গেলেও কুমিল্লার সেই রান তুলতে লেগেছে শেষ ওভার পর্যন্ত। সেই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে কুমিল্লার অধিনায়ক তামিম উইকেটের কিউরেটরকে দোষারপ করেন।

দলের একজন সিনিয়র ক্রিকেটার ও চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হিসেবে তামিমের মন্তব্যে বোর্ডের আপত্তির কথা বলা হয়েছে চিঠিতে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক অবশ্য চিঠি দেওয়ার খবর জানেন না বলেই দাবি করলেন একটি বেসরকারি গন্মাধ্যমের কাছে। তবে তার কথায় কিছুটা আভাসও মিলল চিঠি পাঠানোর।  “চিঠি পাঠানো সম্পর্কে আমার জানা নেই। এটা তো গভর্নিং কাউন্সিলের ব্যাপার নয়। বোর্ড চাইলে চিঠি পাঠাতে পারে। তবে আমি কালকেশুনেছি, তামিমের মন্তব্য বোর্ডের অনেকের ভালো লাগেনি। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।”

আর এই চিঠির মাধ্যমেই হয়তোবা সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে তামিমকে।

এর আগে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে গত বুধবারের ঘটনাবহুল ম্যাচে ১২ রানে জয় পেয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কিন্তু সময়মত ইনিংস শেষ করতে না পারায় জরিমানা গুনতে হচ্ছে তামিম ইকবালের কুমিল্লাকে। স্লো ওভার রেটের কারণে অধিনায়ক তামিমকে ম্যাচ ফি’র ৪০ শতাংশ ও বাকিদের ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় কুমিল্লা-ঢাকা। ওই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ফিল্ডিং করে কুমিল্লা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দুই ওভার বেশি বল করায় স্লো ওভার রেটের কবলে পড়েছেন তামিম ও তার সতীর্থরা। অধিনায়ক হিসেবে তামিমকে দুই ওভারের জন্য সবমিলিয়ে ম্যাচ ফি’র ৪০ শতাংশ জরিমানা করা হচ্ছে। বাকিদের ২০ শতাংশ। বিসিবির কোড অব কন্টাক্টের ২.৫.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাধারণ স্লো ওভার রেটের কারণে প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ম্যাচ ফি’র ১০ শতাংশ ও অধিনায়ককে ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়।

স্লো ওভার রেটের অভিযোগ মেনে নেন অধিনায়ক তামিম। সে কারণে আনুষ্ঠানিক কোন শুনানির প্রয়োজন হয়নি। চলতি বিপিএলে শুধু তামিম ও তার দলই নয়, এখন পর্যন্ত স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা গুনেছেন সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক নাসির হোসেন ও তার দল, রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার দল।

এছাড়া বিপিএলের চলতি আসরের ২০তম ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৩ রান করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। রংপুর রাইডার্স দলে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ক্রিস গেইলদের মতো তারকা থাকায় প্রথম অর্ধ শেষে জয়ের পাল্লা ভারি ছিল রংপুরের দিকেই। কিন্তু উল্টো ১৪ রানে হেরে যায় মাশরাফিরা। তবে, আম্পায়্যারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। ক্রিস গেইল প্রথম বলেই লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হলেও আম্পায়্যার দেন নট আউট। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় সেটা আউট ছিল। আম্পায়্যারের এমন সিদ্ধান্তে মাঠেই প্রতিবাদ করেন কুমিল্লার অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান। অন্যদিকে রশিদ খানের বলে যখন গেইলকে লেগ বিফোর উইকেটের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, সেটি ছিল নট আউট।

এছাড়া ম্যাচের গুরুত্বপুর্ণ মুহুর্তে রংপুর রাইডার্সের ব্যাটসম্যান রবি বোপারার বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আবেদন করেন উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাস। আউট না দেয়ায় সাথে সাথে বল মাটিতে ছুঁড়ে প্রতিবাদ করেন লিটন।

পরে তাঁর সাথে যুক্ত হোন তামিম ইকবালও। এই দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন অন ফিল্ড আম্পায়ার রেনমোর মার্টিনেজ এবং মাহফুজুর রহমান। অভিযোগে সমর্থন দিয়েছেন তৃতীয় আম্পায়ার মোরশেদ আলী খান এবং চতুর্থ আম্পায়ার মুজাহিদুজ্জামান।

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করায় লেভেল থ্রি আইন ভাঙেন এই দুই ক্রিকেটার। ম্যাচ শেষে তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস ম্যাচ রেফারি সেলিম সাহেদের সামনে তাদের দোষ স্বীকার করেছেন।

যার ফলে শনিবারের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে তামিম ও লিটনকে। পাশাপাশি তাদের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট। চলতি বিপিএলে আর এক পয়েন্ট যুক্ত হলেই এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেই এই দুই ক্রিকেটার।