‘কুমিল্লার মানুষ আয়কর প্রদানের বিষয়ে অনেক সচেতন’

শামছুল আলম রাজন ● ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ছিল জাতীয় আয়কর দিবস। ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি পালন করেছে কর অঞ্চল কুমিল্লা। এছাড়া গোটা নভেম্বর মাসই এ অঞ্চলের অধীনে থাকা ছয়টি জেলায় (কুমিল্লা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষীপুর) নানা আয়োজনের মাধ্যমে কর দাতাদের কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

গত বছরের ২২ আগস্ট থেকে কর অঞ্চল কুমিল্লার কর কমিশনার হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ড.সামস্ উদ্দিন আহমেদ। ড.সামস্ ৯ম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে গত ২৭ বছর ধরে আয়কর নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করছেন। অস্টেলিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেছেন আয়কর আইন নিয়ে। তিনি তার প্রশাসনিক কাজের বাইরেও নিজের ধ্যানধারণাকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব উদ্ভাবনীর মাধ্যমে মানুষকে আয়কর প্রদানে সচেতন করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে তিনি সফলও হয়েছেন। তার নেতৃত্বে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড-আয়কর ক্যাম্প-২০১৭, কর শিক্ষণ ফোরাম, পে-রোল ট্যাক্স এবং অনলাইন রির্টান দাখিল এর উপর নিয়মিতভাবে কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। ড.সামস্ এর নানামুখি উদ্যোগের ফলে বেড়েছে এ অঞ্চলের কর আহরণ।

কর অঞ্চল কুমিল্লার বিভিন্ন দিক নিয়ে বৃহস্পতিবার কথা হয় কর কমিশনার ড.সামস্ উদ্দিন আহমেদের সাথে। তার নিজ কার্যালয়ে আলাপকালে তিনি বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছেন বর্তমান কর সংস্কৃতি ও কর অঞ্চল কুমিল্লার নানা দিক ও উদ্যোগের কথা। কুমিল্লার মানুষ আয়কর প্রদানের বিষয়ে অনেক সচেতন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কর অঞ্চল কুমিল্লা সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রথমেই তিনি জানান, কর অঞ্চল কুমিল্লা একটি মডেল জোন। এ অঞ্চল কখনো বাজেট পূরণে ব্যর্থ হয়নি। আমি যোগদানের পর এ অঞ্চলে ২ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত করদাতার মাইলফলক অর্জন করে। এছাড়া আমি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি যেমন, উৎস কর কর্তন, এ অঞ্চলের সকল ধরনের পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সাথে মতবিনিময়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রচার ও তথ্য প্রদান এবং সার্বিকভাবে কর অঞ্চল কুমিল্লার পরিধি ও সেবার মান বৃদ্ধি করা।

আমার এসব পদক্ষেপের ফলে আগের তুলনায় কর দাতাদের কর প্রদানে আরও উৎসাহিত করতে পেরেছি। তিনি জানান, আমরা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, জেলা প্রশাসন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, দোকান মালিক সমিতি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা জজশীপ এবং কুমিল্লার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে গিয়ে গিয়ে কর্মশালাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। তাদের সাথে আয় করের প্রয়োজনীয়তা প্রচারের পাশাপাশি তাদের থেকেও বিভিন্ন পরামর্শ নিয়েছি।

তাদের পরামর্শে আয়কর দাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে আমি নিজে এখন পর্যন্ত ৬টি গান লিখেছি এবং নিজে সুর করে আবার নিজেই গেয়েছি। এ গানগুলোর কথা এমন ভাবে লেখা হয়েছে যাতে একজন করদাতা সহজেই কর প্রদানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কর প্রদানে উৎসাহিত হয়। আমার গাওয়া এ ৬টি গান শুধু কুমিল্লা নয় কর অঞ্চল খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ বিভিন্ন আয়কর মেলায় কর দাতাদের কর প্রদানে উৎসাহ যোগাতে কাজে লাগছে।

আয়কর মেলা প্রসঙ্গে ড.সামস্ বলেন, আয়কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে মেলার আয়োজন করা যেতে পারে পৃথিবীর আর কোন দেশ এমন ধারনার জন্ম দিতে পারেনি। একমাত্র আমাদের দেশেই আয়কর দাতাদের গুরত্ব বিবেচনা করে মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবং এতে সারা দেশে ব্যাপক সাড়াও মিলছে।

আয়কর মেলা আয়োজনেও কর অঞ্চল কুমিল্লা দৃষ্টান্ত রেখেছে উল্লেখ করে কর কমিশনার জানান, এবারে মেলায় আমরা সেলফি জোন, কিডস্ কর্নার, আয়কর জাদুঘর, ব্লাড গ্রুপিং ডায়াবেটিস পরীক্ষাকরনের আয়োজন করি। যা দেশের অন্য অঞ্চলগুলোর থেকে ব্যাতিক্রম। এছাড়া মেলায় মুক্তিযুদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও নারীদের জন্য আয়কর প্রদানে আলাদা বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়।

২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্পর্কে তিনি জানান, কুমিল্লার মানুষ আয়কর প্রদানের বিষয়ে অনেক সচেতন। সর্বশেষ তথ্য মতে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছি। কুমিল্লার আয়কর দাতাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে ড.সামস্ জানান, এ অঞ্চলের মানুষ সহজেই যে কোন কিছু গ্রহন করতে পারে। আমাদের সকল আয়োজনে আয়কর দাতাদের সবসময় সাথে পেয়েছি।

আয়কর ব্যাবস্থার উন্নয়নে ব্যাক্তিগত উদ্যোগের কথা জানতে চাইলে ড.সামস্ উদ্দিন আহমেদ জানান, আমি নিজে স্বপ্রনদিত ভাবে কর অঞ্চল কুমিল্লা এলাকায় একটি সার্ভে করছি। আমি এ অঞ্চলের অধিনে থাকা ৬ জেলার এক হাজার মানুষের ওপর সার্ভে করে জানতে চাচ্ছি তারা আসলে আয়কর নিয়ে কি ভাবেন এবং আয়কর অফিস থেকে কি প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, আমরা যদি কর দাতাদের মনোভাব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা পাই তাহলে তাদেরকে আয়কর প্রদানে উৎসাহিত করার সহজ উপায় খুজে পাব। এছাড়া তিনি জানান, বিভিন্ন দিবসে নতুন নতুন স্লোগানের মাধ্যমে আয়করের প্রয়োজনীয়তা প্রচার করে আসছি যেমন, ‘আয়করের সংস্কৃতি বাংলাদেশের উন্নতি’, ‘আয়কর দিব হেসে দেশকে ভালোবেসে’ এগুলো আমার নিজের চিন্তা ভাবনা থেকে আসা স্লোগান।

উল্লেখ্য, এবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (জারাবো) থেকে কর অঞ্চল কুমিল্লাকে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্য ৯শ’ ১৫ কোটি টাকা আয়কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে গত ১ নভেম্বর থেকে আয়োজন করা হয় চারদিন ব্যাপী আয়কর মেলা। এছাড়া ২৪ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যান্ত পালন করা হয় আয়কর সপ্তাহ।