কুমিল্লায় অপহরণের ৫ দিন পর স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● কুমিল্লার হোমনায় অপহরণের পাঁচদিন পর স্কুলছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত স্কুলছাত্র রিয়াদ (১২) উপজেলার নিলখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং মিরাশ গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে। বুধবার বিকেলে উপজেলার মনাইরকান্দি গ্রামের সড়কের পাশের গর্ত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে হোমনায় একমাসে অপহরণের পর দুই স্কুল ছাত্রে লাশ উদ্ধার হলো।

রিয়াদের মামা জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংসার ছিল অভাবের। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি ভাড়ায় চালিত ইজিবাইক চালিয়ে পরিবারকে সহায়তা করতো রিয়াদ। গত শনিবার বিকেলে ইজিবাইক চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে। এরপর ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইজিবাইকের মালিক মো. বাবুল মিয়াকে রিয়াদের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ফোন করে ৭০ হাজার টাকা মুক্তপণ দাবি করেন। বিষয়টি রাতেই পরিবারের সদস্যরা মুরাদনগর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। অপহরণকারীদের দেয়া ঠিকানা মোতাবেক মুরাদনগর উত্তরত্রিশ কলাবাগানে গেলে মুক্তিপণের জন্য অপেক্ষমান তিন যুবককে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করে।

হোমনা থানার ওসি রসুল আহমদ নিজামী জানান, গ্রেফতার করা তিনজনকে মুরাদগনগর থানা পুলিশ হোমনা থানায় সোপর্দ করে। এরা হলেন- দেবিদ্বার উপজেলার শিবনগর বক্স বেপারী বাড়ি গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), মুরাদনগর উপজেলার উত্তর তিরিশ গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে মো. হেলাল (২৩) এবং একই গ্রামের বারিক মিয়ার ছেলে খাবির হোসেন (২৮)।

এ ঘটনায় রিয়াদের মামা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে সোমবার হোমনা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আটকদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার কোর্টে পাঠানো হলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার তিনজনকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরে রিমান্ডে তাদের তথ্যমতে বুধবার ঢাকা থেকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে বুধবার দুপুরে মনাইরকান্দি গ্রামের সড়কের পাশ থেকে রিয়াদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপহরণের পর ওই দিন সন্ধ্যায়ই গ্রেফতারকৃতরা রিয়াদকে খুন করে ইজিবাইক নিয়ে মুরাদনগর উত্তর ত্রিশ গিয়ে রিয়াদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে মুক্তিপণ দাবি করে বলে পুলিশের নিকট স্বীকার করেছে বলে জানান ওসি।

উল্লেখ্য-এর আগে গত ৪ নভেম্বর উপজেলার দুলালপুর হাইস্কুল ছাত্র জাহিদকে অপহরণ করে খুন করে মুক্তিপণ দাবি করে ঘাতকরা। পরে মুক্তিপণ চাওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তিন পুলিশ তিনজনেক গ্রেফতারের পর ওই তিন ঘাতক জাহিদকে খুন করে লাশ স্কুলের সেফটিক ট্যাংকে ফেলে রাখে বলে পুলিশকে জানালে ৪দিন পর সেফটিক ট্যাংক থেকে পুলিশ জিহাদের লাশ উদ্ধার করে। এ নিয়ে একমাসে অপহরণের পর দুই স্কুল ছাত্রে লাশ উদ্ধার হলো।