কুমিল্লার প্রায় প্রতিষ্ঠানে এসএসসি ফরম পূরণে ৩ গুণ ফি আদায়

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু ● কুমিল্লা জেলাজুড়ে শিক্ষায় অরাজকতা বিরাজ করছে। কয়েকটি ভালো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সিংহভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসএসসি ফরম ফিলাপে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কোন ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ১০ হাজারে গিয়েও ঠেকছে। এছাড়া নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রতিটি বিষয়ের জন্য ৩ শত টাকা থেকে ৫ শত টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মুরাদনগর প্রতিনিধি মাহবুব আলম আরিফ, নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি কামাল হোসেন জনি, স্টাফ রিপোর্টার মহিউদ্দিন ভূইয়া,সেলিম চৌধুরী।

সূত্রমতে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত ফি সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৫০ টাকা। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে ফরম ফিলাপ করতে না পারলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য ১ শত টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে। কিন্তু এসব নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলো কসাইয়ের রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন শর্তজুড়ে, বিভিন্ন কিছুর নামে এসব অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। স্কুল শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজন এ অতিরিক্ত টাকা ভাগ করে নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।

অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে দেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচর্নী পরীক্ষায় এক বিষয় অকৃতকার্য হলে তার ফরম পূরণ করা যাবে না। টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট শীট বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের পাশ দেখিয়ে ফরম ফিলাপ করাচ্ছে এবং শিট সংশোধন করে বোর্ডে জমা দিচ্ছে। এদিকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী, যারা অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদেরকে ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্তি ফি জোগাতে অপারগ হয়ে চড়া সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে অনেক অসহায় অভিভাবকদের। বোর্ড ফির চাইতে তিন-চার গুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করায় এই অবস্থায় পড়তে হয়েছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। মাসুদা বেগম নামের এক অভিভাবক জানান, বোর্ডে নির্ধারিত ফি নেওয়ার নির্দেশনা স্কুলগুলো পালন করছে না। একেক স্কুল একেকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে মনগড়া টাকা আদায় করছে।

মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, ছেলে পরীক্ষা দিতে পারবে না শুনে যখন খারাপ লাগে। তখন কি আর করব, সুদের মাধ্যমে টাকা নিয়ে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ছেলের ফরম পূরণ করতে বাধ্য হয়েছি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজাপাড়া নেউড়া এম আই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এমনই চিত্রই এ উপজেলার প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ।

কুমিল্লা সদরের পাচথুবী ইউনিয়নের বামইল স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি ফরম ফিলাপে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সময় ফি ১ শত টাকার পরিবর্তে ৫ শত টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন শিক্ষার্থীকেই টাকার রসিদ দেয়নি। কুমিল্লা নগরী ও সদরের ৬ ইউনিয়নের প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্রও এমনই।

চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথ ইউনিয়নের ফায়ের খোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় যারা ১/২ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের কাছ থেকে ৭/৮ হাজার টাকা, যারা সব বিষয়ে কৃতকার্য হয়েছে তাদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ বাবদ ৫/৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এভাবে উপজেলার প্রায় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকায় ফরম পূরণ করতে হয়েছে।

লাকসাম উপজেলা ২৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে বোর্ড ফি চাইতে তিন থেকে চার গুন অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। রহস্যজনক কারনে বাড়তি ফি আদায়ের বিষয়টি দেখে ও না দেখার ভান করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অনিয়ম গোপন রাখতে অতিরিক্ত ধার্য্যকৃত টাকা আদায়ের কোন রশিদ দেয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত টাকা দিতে অক্ষম হলেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অভিভাবকরা ধার্য্যকৃত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তা গোপন রাখছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নির্ধারিত বোর্ড ফিকে রাউন্ড ফিগারে (বৃত্তকার) এনে কমপক্ষে ৩ হাজার ৫’শ থেকে ৪ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রায় সবকটি বিদ্যালয়ের ৩ মাস মেয়াদি কোচিং ফি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোচিংয়ে প্রতিটি বিষয়ের জন্য ৩০০থেকে ৫০০টাকা হারে ধার্য্য করা হয়েছে। সেই হিসাবে কোচিং ফি বাবত আদায় হচ্ছে কম পক্ষে ২ হাজার টাকা। এছাড়া কোচিং চলাকালীন বেতন ২০০ টাকা, উন্নয়ন ফি ১৫০, সেশন ফি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, মিলাদ ১০ থেকে ১৫০ টাকা, ব্যবহারিক পরীক্ষা ১০০ টাকা, অনলাইন ফি বাবত ৩০ থেকে ৫০ টাকা নির্ধারন করা হয়। সব কিছু মিলিয়ে ফরম পূরনে প্রতি পরীক্ষার্থীকে গুনতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে বোর্ড ফি আদায়ে রশিদ দেয়া হলেও ধার্যকৃত অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে রশিদ ছাড়াই।

যে সব পরীক্ষার্থীর বকেয়া রয়েছে তাদের সেগুলো পরিশোধে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানের ক্ষতি হবে চিন্তা করে বাড়তি অর্থ প্রদানের কথা প্রকাশ করতে অপরাগতা পোষন করে।

উপজেলা ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে এর মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে তা হলো লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ৪ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, এনএফ এন্ড বিএন উচ্চ বিদ্যালয় ৪ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, ইছাপুরা সেন্ট্রাল ৪ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, জালাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, শ্রীয়াং উচ্চ বিদ্যালয় ৪ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয় ৪ থেকে সাড়ে চার হাজার, , আজগরা স্কুল এন্ড কলেজ সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার হাজার ও গণউদ্যোগ বালিকা স্কুল এন্ড কলেজে ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেয়ারসহ প্রায় প্রতিটি স্কুলে গড়ে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিভাবক সূত্রে জানা যায়।

এ ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রসাদ কুমার ভাওয়াল বলেন, বোর্ডের ধার্য্যকৃত যে টাকা নির্ধারন করা হয়েছে তার থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএসসি ফরম ফি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন তা আমি জানি না, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মুরাদনগর উপজেলার ৫৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বেশিরভাগ বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে।

মুরাদনগর ডি আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রামচন্দ্রপুর রামকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় ও দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩ হাজার , কামাল্লা ডি আর উচ্চ বিদ্যালয়, পাচঁকিত্তা উচ্চ বিদ্যালয়, বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়, কোরবানপুর জিএম উচ্চ বিদ্যালয়, হাটাশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাইড়া এম আরিফ স্কুল এন্ড কলেজ, আলিরচর তায়মোম বেগম উচ্চ বিদ্যালয়, ভূবনঘর নহল আ: বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়, পরমতলা শব্দর খাঁন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার করে, কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয় ও মোচাগড়া আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৯’শ টাকা, জাহাপুর কে,কে স্কুল এন্ড কলেজ আড়াই হাজার টাকা করে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরন ফি আদায় করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মুরাদনগর ডিআর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজাহান জানান, ১ হাজার ৬৪৫ থেকে ১ হাজার ৭৯০ টাকা করে ফরম পূরনের জন্য নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে কোচিং বাবদ নেওয়া হয়েছে। রামচন্দ্রপুর রামকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, বোর্ড ফি ১ হাজার ৪৯০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে আরা বাকি টাকা বিভিন্ন বকেয়া বাবদ নেওয়া হচ্ছে। কামাল্লা ডি আর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাষার খান বলেন, বোর্ড ফি বাবদ ১৬৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। বাকি অতিরিক্ত টাকা মসজিদের জন্য ২’শ ও হোস্টেলের বাবদ ১ হাজার ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার জানান, একবার জেএসসি পরীক্ষা চলার কারনে ফরম পূরনের বিষয়টি মনিটর করা যায়নি। অতিরিক্ত টাকা যদি কোন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেয়, তা কোন ছাত্র বা অভিভাবক আমার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করে তা তদন্ত করে প্রমান পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, কোচিং এর নামে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারন পরীক্ষার্থীদের কোচিং করা সম্পূর্ণ অবৈধ, তাদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

নাঙ্গলকোট উপজেলার ৩৯টি মাধ্যমিক স্কুল ও ৪১টি মাদ্রাসার মধ্যে প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করেছেন। চাটিতলা উচ্চ বিদ্যালয়, বাইয়রা জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়, বক্সগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও গালর্স স্কুল, সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সিজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, পানকরা হাফেজা উচ্চ বিদ্যালয়, বাঙ্গড্ডা বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কাকৈরতলা উচ্চ বিদ্যালয়, হেসাখাল উচ্চ বিদ্যালয়, দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম জামিলা উচ্চ বিদ্যালয়, এ আর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ভোলাইন স্কুল এন্ড কলেজ, ধাতিশ্বর আহমেদ দেলোয়ারা স্কুল এন্ড কলেজ, দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়, আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়, ঝিকুটিয়া গার্লস স্কুল, মাহীনি উচ্চ বিদ্যালয়, মন্তলী স্কুল এন্ড কলেজ, চান্দগড়া উচ্চ বিদ্যালয়, পাটোয়ার ফাজিল মাদ্রাসা, ঢালুয়া মাদ্রাসা, বাঙ্গড্ডা মাদ্রাসা, চান্দইশ মাদ্রাসা ও জোড্ডা মাদ্রাসাসহ প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনী পরীক্ষায় ১ থেকে ৩ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এস এস সি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। এদিকে কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোটের চাটিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সায়দেুল হকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোনাজের রশিদ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাউদকান্দি উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে দ্বিগুন কোথাও তিনগুন অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাউদকান্দি উপজেলার প্রায় বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি বিজ্ঞান বিভাগে বিদ্যালয়ের ব্যবহারিক ২০ টাকা হারে ৫ বিষয়ে ১শ টাকা, ব্যবস্থাপনা ফি ২৫০টাকা, মডেল টেস্ট পরীক্ষা দুইটি ৪শ টাকা, সাপ্তাহিক পরীক্ষা ১শ টাকা, অতিরিক্ত ক্লাস (নভেম্বর-জানুয়ারি) তিন মাস ১ হাজার টাকা, উন্নয়ন ফি ৩শ টাকা, অফিস ও চতুর্থ শ্রেনী ১শ টাকাসহ মোট ২ হাজার ২৫০ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড ফি ১ হাজার ৪৪৫ টাকা ও স্কুল ধার্যকৃত ফি ২ হাজার ১৫০ টাকাসহ সর্বোমোট ৩ হাজার ৫৯৫ টাকা। মানবিক ও বানিজ্য বিভাগে বিদ্যালয়ের ব্যবহারিক ৪০ টাকা, ব্যবস্থাপনা ফি ২শ ৫০টাকা, মডেল টেস্ট পরীক্ষা দুইটি ৪শ টাকা, সাপ্তাহিক পরীক্ষা ১শ টাকা, অতিরিক্ত ক্লাস (নভেম্বর-জানুয়ারি) তিন মাস ৯শ টাকা, উন্নয়ন ফি ৩শ টাকা, অফিস ও চতুর্থ শ্রেনী ১শ টাকাসহ মোট ২ হাজার ৫০ টাকা। বোর্ড ফি ১ হাজার ৩৫৫ টাকা ও স্কুল ধার্যকৃত ফি ২ হাজার ৫০ টাকাসহ সর্বোমোট ৩ হাজার ৪৫৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

গৌরিপুর সুবল-আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ পূরণের রসিদ দেখে জানা যায়, তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৩৯৫ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ সনদ, নম্বর ফর্দ ও ব্যবহারিক ফি এখন আদায় করলেও পরীক্ষার সময় আবার ব্যবহারিক ফি দিতে হয় তাদের সন্তানদের। তা ছাড়াও পাশ করার পর নম্বর ফর্দ ও সনদ পত্রের জন্য আবারও বাড়তি টাকা গুনতে হয় তাদের। এটা রুটিনে পরিণত হয়েছে। এর পরেও বিভিন্ন স্কুল টেস্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনুত্তীর্ণ করে প্রতি বিষয়ের জন্য আরও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই অতিরিক্ত ফি নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে চাপা মনোমালিন্য হচ্ছে। ধার্যকৃত ফি দিয়ে কোন শিক্ষার্থী ফরম পূরন করতে না পারলেও শিক্ষক নেতারা বলছেন কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই ধার্যকৃত টাকা আদায় হয়না। বোর্ড ফি ও স্কুলের ধার্যকৃত ফি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন। দরিদ্র পরিবারের বাবা-মাকে ফি কমানোর জন্য ধর্ণা দিতে হচ্ছে ওই এলাকার কোন প্রভাবশালী বা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কাছে।

অর্থাৎ কুমিল্লা জেলাজুড়ে এসএসসি ফরম ফিলাপ উপলক্ষে প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অরাজকতা শুরু করেছে। তাদের কাছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অসহায়। উপজেলা শিক্ষা অফিস, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন দুর্নীতি চরমে উঠেছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানান, এ বিষয়ে স্কুল শাখায় কোন অভিযোগ আসেনি।