সমাজসেবার নামে ৮ বছর ধরে ছাত্রীদের ধ*র্ষণ! তোলপাড়

ডেস্ক রিপোর্ট ● সমাজসেবার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে অনেকের কাছেই জনপ্রিয় তিনি। ছাত্রী-শিক্ষক এমনকি অফিস সহকারী কেউই রক্ষা পায়নি তার যৌ*ন হয়রানি থেকে।

প্রায় ৮ বছর ধরে নিজ ব্যবসার আড়ালে তিনি করে গেছেন এই কু*কীর্তি। পুরো নাম শাফিন আহম্মেদ। উঠতি মডেল, সমাজসেবী এবং ইউটিউবার হিসেবে পরিচিত।

সম্প্রতি শেফস টেবিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে ‘সুপের সঙ্গে ব্যাটারি’ পাওয়ার ভিডিও ভাইরাল করে আলোচিত-সমালোচিত হন তিনি।

এবার সেই শাফিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে ধ*র্ষণ চেষ্টার মামলা করেছে এক তরুণী। মিরপুর-১১ নম্বরে নিজ মালিকানার শাফিনস ইংলিশ লার্নিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করে আসছেন শেখ বুলবুল আহমেদ ওরফে শাফিন আহমেদ।

গত ১০ জুলাই পল্লবী থানায় ওই মামলাটি করা হয়। মামলায় নং ২৩। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মাস পূর্বে পল্লবী থানাধীন সেকশন ১১ এর ওয়ান ব্যাংক লিমিডেটের ভবনে অবস্থিত শাফিনস ইংলিশ লার্নিং একাডেমি’ নামক কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট কোর্সে ৫০ হাজার টাকা ফি দিয়ে ভর্তি হন ওই তরুণী।

ভর্তির পর শাফিন আহমেদ তাকে ইংলিশ স্পোকেন আলাদাভাবে পড়াতেন। খোঁজ-খবর নেয়ার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর নেন। মাঝে মধ্যে ফোন করা শুরু করেন।

প্রায়ই গভীর রাতে শাফিন ওই তরুণীকে ফোন করে আপ*ত্তিকর কথাবার্তা বলা শুরু করেন। প*র্নো জাতীয় ভিডিও পাঠাতেন ফেইসবুকে। এসব বন্ধে নিষেধ করলে ভয়ভীতি দেখাতেন।

টাকা খরচ করে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার কারণে নিরুপায় হয়ে ক্লাসে যেতেন ওই তরুণী। কোচিংয়ে পড়তে গেলে শরীরের স্পর্শ*কাতর স্থানে শাফিন হাত দিতেন বলেও মামলায় উল্লেখ করেন তিনি।

গত ১০ নভেম্বর সন্ধায় ৬টার দিকে কোচিংয়ে গেলে একা পড়ানোর কথা বলে কোচিংয়ে কর্নারের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে লিখতে ও পড়তে দেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে সবাই চলে গেলে শাফিন পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন এবং জোর*পূর্বক ধ*র্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কৌশলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলেও লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাননি ওই তরুণী। পরে বান্ধবীদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন জানান, মামলার পর থেকে আমরা শাফিনের সম্ভব্য সব গন্তব্যে খোঁজ করেছি। তাকে পাওয়া মাত্র গ্রেফতার করা হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি শেফস টেবিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে ‘সুপের সঙ্গে ব্যাটারি’ পাওয়ার ভিডিও ভাইরাল করে আলোচিত-সমালোচিত হন শাফিন আহমেদ।

তবে সম্প্রতি যৌ*ন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ‘আট বছর ধরে নিজের ইনস্টিটিউটের ছাত্রী, শিক্ষিকা ও অফিস সহকারীদের যৌ*ন হয়রানি, শারীরিক লাঞ্ছনার মতো কু*কীর্তি করেছেন শাফিন- এমনটিই বলছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়েও হুমকি পেয়েছেন এক তরুণী। সম্প্রতি পল্লবী থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছেন তিনি।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, আমিসহ কয়েকজন ২০১২ সাল থেকে মো. শাফিন আহম্মেদের শাফিনস ইংলিশ লার্নিং একাডেমিতে পড়তাম। সেখানে শাফিন আমাকেসহ অনেক ছাত্রীকে খারাপ প্রস্তাব দিত।

আমি শাফিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। গত ২৩ জুন তার হয়রানির প্রতিবাদ করে ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং করি।

সে কারণে শাফিন ও তার অফিস সহকারী ফেসবুকে বিভিন্ন ফেক আইডি থেকে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছে। তারা আমার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এ আশংকায় জিডি করি।

এদিকে, শনিবার রাতে শাফিনকে নিয়ে একটি রোস্টিং ভিডিও আপলোড করেন ইউটিউবার তাহসিন (তাহশিনেশন)। ভিডিওতে তার সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড ছাড়াও উঠে আসে যৌ*ন হয়রানির বিষয়টি।

সেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাফিনের এক শিক্ষার্থী বলেন, শাফিন মেয়েদের হয়রানি করে। সে কোচিং সেন্টারের মেয়েদের শরীরে ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দেয়।

আমার এক বান্ধবীকে সে রাতে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেছে, আচ্ছা তুমি কি করছ? ঘুমিয়েছ? আচ্ছা আমি যদি তোমার পাশে থাকতাম কি করতা তুমি?’ রমজান মাসে এক মেয়েকে তার গাড়িতে ধ*র্ষণের চেষ্টাও করেছে শাফিন।

ভিডিওতে সাক্ষাৎকারপ্রদানকারী শাফিনের কোচিং সেন্টারে কর্মরত আরেকজন বলেন, একদিন কোচিং সেন্টারের এক কোণে সে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। আমার সংবেদনশীল জায়গায় স্প*র্শ করে।

আমাকে বাজে বাজে কথা বলে। আমি প্রতিবাদ করলে সে বলে, মজা নাও। কোচিংয়ের একাধিক মেয়ের সঙ্গে সে জোর করে শারী*রিক সম্পর্ক করতো বলে মন্তব্য করেন তিনি ।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, জিডিটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্য কারও যদি যৌ*ন হয়রানির অভিযোগ থাকে তাহলে তারাও থানায় এসে মামলা করতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাফিনের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাফিনস ইংলিশ লার্নিং ইনস্টিটিউটের নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলে কেউ রিসিভ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *